ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনি : হোটেল সিয়াম-৩

আপডেট: 05:31:51 08/12/2016



img

সুধাংশু শেখর বিশ্বাস

(পূর্বপ্রকাশের)

আমাকে রুমে পৌঁছে দেন ইসারা। লাইটের সুইচ, জানালার পর্দা, বাথরুমের কল সব ঠিকঠাক আছে কিনা নিজে চেক করলেন। সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, তোমার উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। বিশ্রাম করো। ভালো করে খেতে পারোনি তুমি। রাতে খিদে লাগলে কিছু একটু খেয়ে নিও। সকাল নয়টায় তোমাকে নিতে আসবে আমার এক স্টুডেন্ট। ডিপার্টমেন্টে বসে এখানকার প্রোগ্রামের সব কিছু বুঝিয়ে দেবো তোমাকে। আর কোনো সমস্যা নেই তো?
: না, না। কোনো সমস্যা নেই। তোমাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে ইসারা। বেশ একটা মা মা ভাব আছে তোমার মধ্যে। তোমার আন্তরিকতায় মুগ্ধ আমি।
: এভাবে বলছো কেন। তুমি আমাদের গেস্ট। তোমার দেখাশুনা করা আমার কর্তব্য। ভালো কথা, এখানে কিন্তু কাছাকাছি কোনো মসজিদ নেই। প্রে করতে চাইলে অনেকটা দূরে যেতে হবে তোমাকে। তুমি নিশ্চয়ই ড্রিংক করো না। তোমাদের ধর্মে তো পর্ক এবং ড্রিংক নিষিদ্ধ।
: হ্যাঁ, মুসলমানদের জন্য পর্ক এবং ড্রিংক নিষিদ্ধই বটে। তবে আমি মুসলিম নই, হিন্দু। আর আমাকে নিয়ে টেনশন করারও কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আমি তেমন ধার্মিক নই। প্রার্থনার জন্য মন্দিরে যেতে হবে না আমাকে নিয়ে। তবে ঐতিহাসিক এবং দর্শণীয় যে সব জায়গা আছে, সেসব থেকে বঞ্চিত কোরো না। সুযোগমতো দেখানোর ব্যবস্থা কোরো।
: আর খাওয়া দাওয়া? জিজ্ঞেস করেন তিনি।
: খাওয়া দাওয়া নিয়েও চিন্তা কোরো না। বিফ, পর্ক কোনোটাই খাই না আমি। ভেজিটেরিয়ানও নই। সুতরাং মাংসের মধ্যে সহজলভ্য চিকেন আর মাটনেই চলে যাবে আমার। কোন কিছু নিয়ে তোমাকে বদার করতে হবে না।
: হিন্দু ধর্মে বিফ নিষিদ্ধ জানি। পর্ক তো নয়। তাহলে পর্ক কী দোষ করল? জানতে চায় ইসারা।
: বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ। শুয়োরের মাংস খাওয়ার চল সেখানে নেই। অনভ্যাসের ধারায় তাই আমরাও খাই না। না খেতে খেতে সেটাই আমাদের কালচার হয়ে গেছে।
: তা ঠিক। অভ্যাস একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু, শুনেছি হিন্দু শাস্ত্রে নাকি গরুর মাংস খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ নয়।
: তাই নাকি! অনেকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে বটে। তবে সেটা করে তারা শাস্ত্রগ্রন্থ না পড়ে এবং না জেনে।
: তাহলে সত্যটা কী?
: হিন্দুরা সনাতন ধর্মালম্বী। তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হল ‘বেদ’। ‘বেদ’ এর বিভিন্ন সূক্তে বিভিন্নভাবে গো-পালনকে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আর গো-হত্যাকে করা হয়েছে নিরুৎসাহিত। বলা হয়েছে, গরু ও বৃষকে রক্ষা করো। গাভী সহস্র উপকারক্ষম। শত সহস্র ক্ষীরধারাযুক্ত। আর একজায়গায় বলা হয়েছে, অঘ্নযা (যাকে হত্যা করা যাবে না) গোমাতাকে ভালোবাস, ভালোবাস তার শাবককেও। বিশুদ্ধ জল আর শ্যামল ঘাস দিয়ে তাকে প্রতিপালনের মাধ্যমে তোমরা ধন সম্পদ লাভ করবে। অন্য একটি সূক্তে বলা হয়েছে, গো হত্যা কোরো না। গরু হলো অদিতি (যাকে টুকরো করে ভাগ করা যায় না)। তাদেরকে হিংসা কোরো না। গাভীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, হে অহননিয়া (যার গলা কাটা যাবে না) গাভী! তুমি শোভন শস্য তৃণ ভক্ষণ করো এবং প্রভূত দুগ্ধবতী হও। তাহলে আমরাও প্রভূত ধনবান হব।
: এইসব অনুশাসনে গো-মাংস ভক্ষণে তো নিষেধাজ্ঞা দেখি না।
: সরাসরি না থাকলেও প্রকারান্তরে তো আছেই। শাস্ত্র অনুযায়ী গরু হলো অঘ্নযা, অদিতি এবং অহননিয়া। যার অর্থ, গরুকে হত্যা করা যাবে না, গলা কাটা যাবে না এবং টুকরো করে ভাগ করা যাবে না। তাহলে কী দাঁড়াল মূল কথাটা? 
: গো-হত্যা বন্ধ থাকলে মাংস খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আপনা আপনিই এসে যায়।
: তবে স্পষ্ট করা হয়েছে ঋগবেদের একটি সূক্তে। মানুষ, ঘোড়া ও গরুর মাংস আহারকারীদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সেখানে।
: তাহলে তো ঠিকই আছে। বিফ নিষিদ্ধ তোমাদের ধর্মে। বাঃ তুমি তো বেশ ধার্মিক। ধর্ম বিষয়ে অনেক পড়াশুনা তোমার।
: পড়াশুনা আছে সামান্য। তেমন বেশি নয়। সেটা শুধু জানার জন্য আর বোঝার জন্য। আমি আসলে যুক্তিবাদী, অন্ধ অনুসারী নই। আমার ধারণা, গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার কারণ যতটা না ধর্মীয়, তারচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক। অনার্য সমাজে গরুর মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল। শাস্ত্র ঘেঁটে জানা যায়, অশ্বমেধযজ্ঞের মতো একসময় গো-মেধযজ্ঞও হতো। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তখন গরু বলি দেয়া হোত। মুনি-ঋষিদের বিশেষ পছন্দ ছিল নধরকান্তি কচি বাছুরের মাংস।
: তাহলে! নিষিদ্ধ হল কী করে?
: হাজার হাজার বছর আগে অর্থনীতি ছিল সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর।
: সেটাই হবার কথা। সমর্থন জানায় ইসারা।
: চাষবাসের প্রধান হাতিয়ার ছিল গরু। শিশুরা বেড়ে ওঠে গরুর দুধ খেয়ে।
: কোনো সন্দেহ নেই। চাষাবাদে গরুর ভূমিকা এখনো আছে।
: সেই অতীব প্রয়োজনীয় প্রাণী গরু যদি নির্বংশ হয়ে যায় তাহলে মুখ থুবড়ে পড়বে অর্থনীতি, অচল হয়ে পড়বে সমাজ। আর্য সভ্যতা গড়ে ওঠার পর তাই কৃষি আবাদ সম্প্রসারণ এবং দুধের সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সামাজিকভাবে গো-হত্যা বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেটাকে পোক্ত করার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় ধর্মগ্রন্থে। সেই ধারা অনুসরণ করে আমাদের পূর্বপুরুষরা গরুর মাংস খায়নি। পুরুষানুক্রমে চলে আসা সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরাও খাই না। এটাই এখন আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কালচার।
: ভালো লাগল তোমার কথা। কালচারাল ঐতিহ্য ধরে রাখাটা জরুরি। নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকে। অস্তিত্বের সংকট মোচন হয়। বলল ইসারা।
: ঐতিহ্য ধরে রাখার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো শিখ সম্প্রদায়। তাদের চুল-দাঁড়ি না কাটা, মাথায় পাগড়ি পরা আর হাতে বালা ধারণ করা।
: ইন্টারেস্টিং! বলো তো দেখি। জেনে রাখি বিষয়টা। উৎসাহ ভরে বলল ইসারা।
: শিখদের কোনো পূর্বপুরুষ রনজিৎ সিং পাঠানদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এক যুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধজয় ছিল তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, যুদ্ধে জয়লাভ যদি না করতে পারেন, তাহলে মেয়েদের মতো হাতে চুড়ি পড়বেন। চুল-দাড়ি কাটবেন না আর কোনোদিন।
: তারপর?
: দুর্ভাগ্য মহাবীর রনজিৎ সিংয়ের। সেই যুদ্ধে হেরে যান তিনি। কোনোদিন আর চুল-দাড়ি কাটেননি। মাপ মতো চুড়ি না পাওয়ায় তৈরি হয় বালা। সেই বালা পরেছেন হাতে। তাঁর অনুসারীরা বংশানুক্রমে পালন করে আসছে সেই রীতি। পূর্বপুরুষের প্রতিজ্ঞা রক্ষার সম্মানে বিশ্বজুড়ে গোটা শিখ জাতি সেই ঐতিহ্য ধারণ করে আছে আজও।
: সর্বত্রই দেখি শিখদের মাথায় পাগড়ি। বালা হাতে পরার বিষয়টা অবশ্য আমার জানা ছিল না। ভাবতাম এটা তাদের ধর্মের অংশ। কারণটা জানতে পারলাম আজ। ধন্যবাদ তোমাকে।
: আসলে এটাই পরম্পরা। সমাজের জন্য ক্ষতিকর না হলে পূর্বরীতি ধারণ করাই যুক্তিযুক্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। নৈকট্য বজায় থাকে।
: ঠিকই বলেছো। তবে সত্যি বলতে কী, তুমি মুসলিম নও জেনে খুশি হলাম। কোনো প্রসঙ্গ ছাড়াই হঠাৎ বলে ফেলেন ইসারা।
: কেন? অবাক হয়ে জানতে চাই।
: কারণ, আগের গ্রুপে যারা এসেছিল, তাদের নিয়ে বড় ঝামেলায় ছিলাম। তোমাকে নিয়ে সেই সমস্যায় পড়তে হবে না।
: কী ঝামেলা! বিস্মিত আমি।
: এসেই তারা বলে দিল, হালাল মাংস ছাড়া খাবেন না। আমাদের প্রোগ্রাম অনেক দূরে দূরে। গ্রামে-গঞ্জে। সে সব জায়গায় হালাল মাংস কী করে পাব বল তো?
: তা ঠিক। কিছুটা সমস্যা তো বটেই। কিন্তু ব্যাংককে?
: ব্যাংককেও হালাল মাংসের দোকান পাওয়া দুষ্কর। তবে ফাওরাত মার্কেট এলাকায় মুসলিম হোটেল আছে দু’একটা।
: কী আর করা! দু’একজন একটু বেশি ধার্মিক থাকে বটে। সেটা নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে।
: তা পারে। কিন্তু সমস্যা আরো আছে। একজন আবার মসজিদে ছাড়া নামাজ পড়বেন না। মসজিদ তো সব সময় কাছাকাছি মেলে না। তাকে নিয়ে যেতে হয় বহুদূরে। প্রোগ্রামের অন্যরা ভুক্তভোগী হয়। কিন্তু তিনি শুধু নিজেরটুকুই বোঝেন। অন্যের সমস্যার দিকে ফিরেও তাকান না। আমাদের সেট করা প্রোগ্রাম হ্যাম্পার হয়ে যেত।
: দু’একজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে তো আর সবাইকে বিচার করা যায় না।
: সেটা ঠিক। কিন্তু কী জানো, এসব নিয়ে যিনি বেশি মাতামাতি করতেন, তার আবার মদ-নারীতেও আসক্তি কম ছিল না।
: তাই নাকি! বল কী!
: শুধু কী তাই! সবচেয়ে ঘৃণ্য এবং জঘন্যতম কাজটিও তিনি করেছেন।
: কী সে ঘৃন্য কাজ! অবাক হয়ে জানতে চাই।
: মিথ্যা কথা বলতেন তিনি। টেনে টেনে ভীষণ সিরিয়াস ভঙ্গীতে আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলেন ড. ইসারা।
আমি হেসে ফেলি। ভেবেছিলাম, না জানি কী সে জঘন্যতম কাজ!
স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলি, তাই তো! মদ-নারী তবু না হয় মানা যায়। কিন্তু মিথ্যা বলা! কভি নেই। কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
: একদম ঠিক বলেছ। খুশি হয়ে মাথা নাড়েন ইসারা।
আমি মনে মনে হাসি। মিথ্যা বলা গুরুতর অপরাধ। মদ, মেয়ে মানুষের চাইতেও। আর আমাদের দেশে!
একেই বলে বুঝি কালচারাল পার্থক্য।
: তবে কী জানো, বাংলাদেশের মানুষ অনেক উদার। সব ধর্মের মানুষের মধ্যে চমৎকার সম্প্রীতি বিরাজমান। তারা ধার্মিক। কিন্তু গোঁড়া নয়। তুমি যার কথা বললে, তিনি ব্যতিক্রম মাত্র। মন খারাপ কোরো না। বোঝানোর চেষ্টা করি আমি।
: ঠিক আছে, মেনে নিলাম, তুমি যখন বলছো। এখন বিশ্রাম করো। সি ইউ টুমরো। গুড নাইট...
: গুড নাইট...
বিদায় নিয়ে চলে যান ড. ইসারা সুকসাথান। ভাবতে থাকি তার বলা কথাগুলো...
বুঝতে অসুবিধা হয় না, সহজ, সরল এবং আন্তরিক মানুষ ইসারা। এমন একজন মানুষের সাথে কাটবে সামনের চারটি সপ্তাহ। মনটা ভালো হয়ে যায় আমার।

ভাবি, আর যাই করি মিথ্যা বলে গুরুতর অপরাধের ভাগিদার হওয়া চলবে না কোনোমতেই...



শ্বেতহস্তীর দেশে

শ্বেতহস্তীর দেশ থাইল্যান্ড। এক সময়ের শ্যামদেশ। থাই উচ্চারণে ‘সিয়াম’।
মনে করা হয়, সংস্কৃত শব্দ ‘শ্যামা’ বা ‘শ্যাম’ থেকে ‘সিয়াম’-এর উৎপত্তি। সিয়ামদের গায়ের রং ছিল ডার্ক ব্রাউন বা শ্যামবর্ণ।
আমি বিভ্রান্ত হই। থাইদের গায়ের রঙ তো ফরসাই দেখি! কালো রঙের মানুষ চোখে পড়ে না তেমন!
ইতিহাস ঘেঁটে জানলাম, থাইল্যান্ডের মানুষেরা শত শত বছর ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেইন ল্যান্ডের দিকে মাইগ্রেট করে আসা।

সাদা হাতি ছিল থাই রাজাদের আভিজাত্যের প্রতীক। কোন রাজার হাতিশালে কটি সাদা হাতি, সেটা দিয়ে নাকি পরিমাপ হতো রাজার সম্মান।
সাংবিধানিকভাবে থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র এখনও চলমান। রাজা হলেন রাজ্যের প্রধান। রাজা ভূমিবল সিংহাসনে বসেন ১৯৪৬ সালে। তখন তাঁর বয়স ছিল ঊনিশ বছর। তিনি হলেন তাদের ‘চাকরি’ ডাইন্যাস্টির নবম মোনার্কি। ‘রামা নাইন’ হিসেবে তাঁর পরিচিতি। সারা পৃথিবীর মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাজা (সম্প্রতি প্রয়াত)।
থাইল্যান্ডের আর একটা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যণীয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি একমাত্র দেশ, যে দেশ পশ্চিমাদের কর্তৃক শাসিত নয়। সবসময় ইংরেজ ও ফ্রেন্স কলোনিগুলোর মধ্যে বাফার জোন হিসেবে আলাদা অস্তিত্ব নিয়ে টিকে ছিল থাইল্যান্ড।

থাইল্যান্ডের আয়তন এক লাখ আটানব্বই হাজার বর্গমাইল। বাংলাদেশের প্রায় চারগুণ। আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর একান্নতম দেশ। জনবলের হিসাবে বিশতম। প্রদেশ মোট সাতাত্তরটা।
ইন্দো-চায়না পেনিনসুলাতে থাইল্যান্ডের অবস্থান। থাইল্যান্ডের দক্ষিণে মালয়েশিয়া, উত্তর-পূর্ব থেকে শুরু করে গোটা পূর্ব এলাকা জুড়ে কম্বোডিয়া, উত্তর-পূর্বে লাওস এবং উত্তর-পশ্চিম থেকে পশ্চিম এলাকা জুড়ে বার্মা।
থাইদের ভাষার নামও থাই। পালি, সংস্কৃত এবং থাইল্যান্ডের পুরনো খেমার শব্দ থাই ভাষার ভিতর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লেখার জন্য তাদের নিজস্ব অক্ষর আছে। ধর্ম থেরারাদা বুড্ডাইজম। শতকরা পঁচানব্বই ভাগ মানুষ এই ধর্মের অনুসারী। থাইল্যান্ডের উত্তর দিকটা পাহাড়ি। মধ্য অঞ্চল সমতল। বলা হয় চাও প্রায়া নদীর ভ্যালি। মূল নদী হলো ম্যাকং। এছাড়া আছে মেই ক্লং, ব্যাং প্যাকং, টাপি ইত্যাদি নদী।
১৯৩৯ সালে সিয়াম এর নামকরণ হয় থাইল্যান্ড। থাই ভাষায় থাই শব্দের অর্থ ‘মুক্ত মানুষ’। ১৯৪৫ সালে আবার থাইল্যান্ড তার পূর্বনাম সিয়াম এ রূপান্তরিত হয়। ১৯৪৯ সালে আবার থাইল্যান্ড। সেই থেকে অদ্যাবধি থাইল্যান্ড নামেই বিশ্ববাসীর কাছে দেশটির পরিচিতি।
থাইরা ভারতীয় সংস্কৃতি দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত। থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ধর্মও এসেছে ভারতবর্ষ থেকে সম্রাট অশোকের সময়ে। তখন থাইল্যান্ডে ছিল মউর্যাই সাম্রাজ্যের শাসন।
থাইল্যান্ড মূলত কৃষিপ্রধান দেশ। ১৯৮৫ সাল থেকে শুরু হয় আধুনিক শিল্পায়ন। নব্বই দশকে এসে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে শুরু করেছে। শিল্প, কৃষি ছাড়াও থাইল্যান্ডের অন্যতম আয়ের উৎস হলো পর্যটন এবং তার অবিচ্ছেদ্য অংশ সেক্স ট্যুরিজম।
(ক্রমশ)