নতুন বই না পেয়ে হতাশ তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

আপডেট: 08:26:08 01/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : বছরের প্রথম দিন বই উৎসবে জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ কথা থাকলেও তা শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি।
যশোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব বই এখনও পৌঁছায়নি। ফলে বই উৎসব পালিত হলেও অনেকেই বই পায়নি। উৎসবের দিনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খালি হাতে হতাশ হয়ে ফিরেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তৃতীয় শ্রেণির কোনো বই উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসেনি বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বই উৎসবের সূচনা করেন। এরপর তিনি চৌগাছা উপজেলার আরো কয়েকটি স্কুলের বই উৎসবে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনওরা বই উৎসবের উদ্বোধন করেন।
যশোর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৮২ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কোনো বই দেওয়া হয়নি। বই না আসায় শিক্ষকরা তাদের হাতে উৎসবের দিনে বই দিতে পারেননি। যশোর জেলায় তৃতীয় শ্রেণিতে মোট বইয়ের চাহিদা চার লাখ পাঁচ হাজার ৭৬৬। এ ছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ধর্ম বইও আসেনি।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, সবাইকে বই দিলেও তাদের শ্রেণির কাউকে নতুন বই দেওয়া হয়নি। বই নিতে দাদু-মা-খালাকে সঙ্গে নিয়ে এসে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
অভিভাবক আলী কদর বলেন, 'বই না পেয়ে ছেলে হতাশ হয়েছে। কবে নাগাদ তাদের হাতে বই দেওয়া হবে তাও জানাতে পারছেন না শিক্ষকরা।'
চৌগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন ও বাঘারপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশারফ হোসেন জানান, তৃতীয় শ্রেণির কোনো বই এখনো আসেনি। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ধর্ম বই পাওয়া যায়নি।
জেলা মধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু বলেন, 'মাধ্যমিক স্তরের শত ভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে।'
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ বই এখনও আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপসকুমার অধিকারী।
তিনি বলেন, 'খুব দ্রুত বই পেয়ে যাবে শিক্ষার্থীরা।'
তবে, বই উৎসবের দিন যশোর সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন