নবজাতকের কানে আজানের ধ্বনি

আপডেট: 03:52:53 24/07/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : মুসলিম পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডান কানে আজান ও বাঁ কানে ইকামত দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই কাজটি করবেন?
চুয়াডাঙ্গার পলাশপাড়ার দর্শক সাজেদা খাতুনের এমন প্রশ্নের জবাবে এনটিভির ইসলামি অনুষ্ঠান 'আপনার জিজ্ঞাসা'য় বিশিষ্ট আলেম আবু বকর মো. জাকারিয়া বলেন, ডান কানে আজান ও বাঁ কানে ইকামতের হাদিসটার দুর্বলতা আছে। তবে আজানটা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য আজান দিলেই যথেষ্ট। তবে আজানটা জোরে নয়, যেন বাচ্চার কান ফেটে যায়, বাচ্চা ভয় পায়, কান্নাকাটি আরম্ভ করে, এমনভাবে নয়।
আসলে এর উদ্দেশ্যটা আমাদের জানতে হবে। আজানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই বাচ্চা দুনিয়াতে এসেছে, সে যেন ইসলামের ওপর থাকে, ফেতরাতের ওপর থাকে। এ জন্য প্রথম ধ্বনি তার কানে যেন যায়, আল্লাহু আকবার, আল্লাহ সবচেয়ে বড় এবং সর্বশেষ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এটাও যেন তার কানে যায়। আল্লাহর শাহাদাত, তাওহিদের সাক্ষ্য, রাসুলের রিসালাতের সাক্ষ্য, সালাতের সাক্ষ্য, কল্যাণের সাক্ষ্য—এগুলো সবই যেন আপনার সন্তানের ওপর আসর করে, তার ওপর যেন প্রভাব পড়ে, এটাই শরিয়ত চায়। এটা যদি আপনি আদায় করতে পারেন। আস্তে আস্তে বলুন কানের কাছে, যেন আজানের শব্দগুলো যায়, জোরে নয়। অনেক বাড়িতে আজান দিয়ে বসে। এটা আবার ভুল কাজ। বাড়িতে আজান দেওয়াটা ঠিক নয়। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে তার কানের কাছে আজানটা বলুন। পুরুষ-নারী যে কেউ আজান দিতে পারবেন। কারো জন্য নিষেধ নেই। তবে উত্তম হচ্ছে পুরুষ বলা, আজান যেহেতু পুরুষের কাজ।
এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বাচ্চাকে শোনানো, নামাজের জন্য ডাকা বা আহ্বান করা নয়। বাচ্চাকে এটা শোনানোর অর্থ হচ্ছে বাচ্চা যেন তাওহিদবাদী হয়, রাসুল (সা.)-এর রিসালাতকে যেন স্বীকার করে, দ্বীনের ওপর যেন থাকে, নামাজ আদায়কারী হয়, এটাই মূল উদ্দেশ্য। রাসুল (সা.) কী উদ্দেশ্যে কোন কাজটা করেছেন, সেটা জানলে আমাদের জন্য আমল করা সহজ হবে। সুতরাং বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে বলবেন, খুব জোরে নয়। কারণ, এটা করতে গিয়ে বাচ্চার ওপর যেন উল্টো প্রভাব না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আর ইকামত নয়, শুধু আজানই দেবেন। তবে ডান বা বাঁ কান নির্দিষ্ট নয়। আপনি কোলে নিয়ে আস্তে আস্তে বলবেন, বাচ্চা শুনবে। এখানে কান কোনো লক্ষ্য নয়।
সূত্র : এনটিভি