নির্যাতন বন্ধ করুন, মিয়ানমারকে হাসিনা

আপডেট: 02:19:46 12/09/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পের শরণার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতি নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে। তারা যেন প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, আমরা তা করব।”
মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিলেও এ দেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন সরকারপ্রধান। 
মঙ্গলবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে কক্সবাজার এবং সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া নারী, পুরুষ, শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।  
শরণার্থীদের মুখ থেকে দুর্দশার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখ ভিজে ওঠে। তার সঙ্গে থাকা ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।     
মিয়ানমারে যা ঘটছে, তাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, “এ ঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। মানুষ মানুষের মতো বাঁচবে। মানুষের কেন এত কষ্ট!”
মিয়ানমারের আইন পরিবর্তন করে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইন পরিবর্তন করে কেন এই ঘটনার সৃষ্টি করা হলো?
“এই ঘটনা না ঘটলে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার হতো না। ভুক্তভোগী কারা? নিরীহ মানুষ। কীভাবে তাদের ওপর অত্যাচার হয়েছে! এই অবস্থা সত্যি সহ্য করা যায় না। কেন এই অত্যাচার? তারা তো তাদের নিজেদের দেশেরই লোক।”
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ছাড়াও তার পুত্রবধূ আইওএম কর্মকর্তা পেপ্পি সিদ্দিক এ সময় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উখিয়ায় আসেন।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও উখিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পরিস্থিতিতে দেখতে ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও বুধবার কক্সবাজারে যাবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। 
গত ২৪ আগস্ট রাতে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে চালানো হচ্ছে হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ। যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারা ছুটে আসছেন বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে।
গত কয়েক দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে এই দফায় আরো তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
এই শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি। রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও তারা রাজি নয়। 
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ করে দিতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার একটি প্রস্তাব সোমবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
রোহিঙ্গাদের এই স্রোত ঠেকাতে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মতো কোনো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে একাধিক নিরাপদ এলাকা (সেইফ জোন) গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এছাড়া সীমান্তে যৌথ টহলেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো প্রস্তাবেই মিয়ানমারের সাড়া মেলেনি।
সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সোমবার সংসদে বলেন, “মিয়ানমার সরকারের ধারাবাহিক অপচেষ্টা আমাদের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।”
আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনে বলেন, এ সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, তাদেরকেই সমাধান করতে হবে। সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সহযোগিতার দরকার হলে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ তা করবে।
এই সঙ্কটের বিষয়টি জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনেও তুলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন