নিষেধাজ্ঞার 'যোগ্য জবাব' দেবে রাশিয়া

আপডেট: 09:23:58 21/12/2016



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নতুন করে এক রুশ রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারার প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রেমলিন। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে হুমকি দিয়েছে তারা। ক্রেমলিন হুঁশিয়ার করেছে, ওই নিষেধাজ্ঞার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ বিভাগ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে নতুন করে কোনো রুশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরোপ করা এই নিষেধাজ্ঞার খবর জানানো হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ‘ট্রল ফার্ম’ নামের এক রুশ অনলাইনকে অর্থ সহায়তা দেওয়া, এবং ইউক্রেন ও সিরিয়ায় যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক প্রাইভেট একটি আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে সংযোগ থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই ওই রুশ রেস্তোঁরা ও ক্যাটারার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে সতর্ক করছি যে ওয়াশিংটন ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে। আমরা মনে করি এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাশিয়া এর সমুচিত জবাব দেবে।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ওই রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের নাম ইউজিনি প্রিগাজাইন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অজুহাতে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থবিভাগ দাবি করেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রক্ষার মধ্য দিয়ে ইউজিনি প্রিগাজাইন ইউক্রেন সহিংসতায় পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছে। তার তাই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থবিভাগের দাবি, ‘ইউক্রেনে সামরিক ঘাঁটি বিস্তৃত করছে রাশিয়া। একে ব্যবহার করছে ইউক্রেনে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর কাজে।’ ওই সেনাঘাঁটির নির্মাণে ইউজিনি প্রিগাজাইন-এর মালিক জনাব প্রিগাজাইন অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে তারা।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে বহুদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে রাশিয়া। ভিন্ন পররাষ্ট্রসম্পর্ক-বলয়ের মধ্য দিয়ে বিকল্প সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বাসনা হাজির রেখেছেন এককালের কেজিবি কর্মকর্তা পুতিন। সোভিয়েত যুগের মতো করে সাম্রাজ্যৌ বিস্তৃতির বাসনা হাজির করেছেন তিনি।
রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয় ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নে। সে সময় সরাসরি উইক্রেনে অনুপ্রবেশ করে রাশিয়া। ক্রিমিয়াকে অন্তর্ভূক্ত করে রাশিয়ার সঙ্গে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অন্তত ২১ জন পদস্থ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ক্রিমিয়ার জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন করে রুশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন