নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যানসহ নয়জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট: 06:27:54 14/01/2018



img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : নড়াইলের ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রভাষ রায় ওরফে হানু হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ নয়জনকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।
রোববার দুপুরে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে সব আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন, নড়াইল জেলা সদরের মীরেপাড়ার মৃত মজিদ মিনার দুই ছেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিদুর রহমান মিনা ওরফে শহিদ (৫২) ও মো. ইলিয়াছ মিনা (৫৬), সাহিদুর রহমান মিনার ছেলে মো. আশিকুর রহমান মিনা ওরফে আশিক (২২), মোশারফ মিনার ছেলে মো. রাসেল মিনা (৩০), মৃত হাতেম মোল্লার ছেলে বাশার মোল্লা (৩০), মোশারফ মোল্লার ছেলে রবিউল মোল্লা (২৫), আটেরহাট গ্রামের মৃত হারান মোল্লার ছেলে এনায়েত মোল্লা (৫৩), পইলডাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার মোল্লার ছেলে ইয়াসিন মোল্লা (২৪) এবং মুসা মিনার ছেলে মামুন মিনা (২৮)।
আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাষ রায় নৌকার পক্ষে কাজ করেন। অপরদিকে আসামি মো. শাহিদুর রহমান মিনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যানের সমর্থকরা প্রভাষ রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করে। এঘটনায় প্রভাষ রায় চেয়ারম্যানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার জেরে ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রভাষ রায় শহর থেকে সরস্বতী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মীরাপাড়া বাজারের ফারুকের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুজ্জামান ফকিরের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা একত্রিত হয়ে প্রভাষ রায়ের ওপর হামলা চালায়। তারা একটি বড় ছোরা প্রভাষ রায়ের পেটে ঢুকিয়ে দেয় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রভাষ রায় মারা যান।
এ ঘটনায় প্রভাষ রায়ের স্ত্রী টুটুলরানী রায় বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ভবতোষ রায় নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এনামুল হক।

আরও পড়ুন