নড়াইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট: 08:03:16 19/04/2019



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : দুস্থদের জন্য বরাদ্দ ভিজিডির চাল আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ করা হচ্ছে নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে সিঙ্গাশোলপুর-পেড়লী সড়কের শোলপুর ও তারাপুর এলাকার কয়েকশ মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। এছাড়া সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সিঙ্গাশোলপুর ইউপির ওয়ার্ড সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম, শেখর বিশ্বাস, মহিলা সদস্য শেফালি বেগম প্রমুখ ।
বক্তারা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ ভিজিডি কার্ডধারী মানুষদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ভিজিডির চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি কাউকে এক বস্তা (৩০ কেজি), কাউকে দুই বস্তা চাল দিচ্ছেন ইউপি সদস্যদের জমা দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বয়স্কভাতা, ভিজিডি কার্ড প্রদান না করে নিজের স্বজনসহ পরিচিতজনের মধ্যে বিতরণ করেছেন। এমনকি ভুয়া নাম দেখিয়ে তাদের মালামাল আত্মসাৎ করেছেন।
তারাপুর গ্রামের পলাশ মোল্লার স্ত্রী মোসাম্মাৎ সাবিনা বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম থাকলেও আমি কিছুই জানি না। আমি চালও পাইনি।’
একই গ্রামের খায়রুল মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া খানম বলেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত কোনো চাল পাইনি। অথচ আমার নামে কার্ড আছে।’
সাত নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পরিষদে যে তালিকা জমা দিয়েছি চাল দেওয়ার সময় তাদের কারো নামই নেই।’
তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যান ভুয়া নাম দিয়ে এদের চাল আত্মসাৎ করেছেন। আবার একই পরিবারের চারজনকে কার্ড দিয়েছেন।
নয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখর বিশ্বাস বলেন, চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য ছাড়াও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাদের হক মেরে খাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে পরাজিত খায়ের মোল্লা আমার ভাবমূর্তি নষ্ট এবং বদনাম সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নের প্রকৃত দুস্থ মানুষদের তালিকা প্রস্তুত করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লা বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণের রায় মেনে নিয়েছি। একজনের বিরুদ্ধে বিনা কারণে বদনাম কিংবা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো ধরনের মানসিকতা আমার নেই।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আঞ্জুমান আরা বলেন, সিঙ্গাশোলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কমকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন