নড়াইলে জমে উঠেছে ডোঙ্গা কেনাবেচার হাট

আপডেট: 07:17:22 13/07/2017



img

নড়াইল প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নড়াইলে জমে উঠেছে ডোঙ্গা বেচাকেনা। আর গ্রামাঞ্চলে এটির ব্যবহারও চোখে পড়ছে।
বর্ষাকালে জেলার ৩ উপজেলার বিভিন্ন বিল-খালে মানুষের চলাচলের নিয়মিত বাহন হলো তালগাছ দিয়ে তৈরি ডোঙ্গা। কোনো কোনো এলাকায় এটি কোষা নৌকা নামেও পরিচিত। বর্ষাকাল এলেই গ্রামের মানুষের কাছে এর কদর বেড়ে যায়। অনেক খেটে খাওয়া মানুষ এতে করে বিল-খাল থেকে মাছ ধরে, শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
নড়াইল সদর উপজেলার নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে অবস্থিত তুলারামপুর ডোঙ্গা বেচাকেনার জন্য প্রসিদ্ধ একটি হাট। এখানে শুক্র আর সোমবারে হাট বসে। ডোঙ্গা বেচাকেনার জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে লোকজন আসেন। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই চারমাস এ হাটে ডোঙ্গা কেনা-বেচা চলে। ক্রেতার চাহিদা বুঝে একটি ডুঙ্গা ১৫০০টাকা থেকে ৩৫০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি হাটে ৪০ থেকে ৫০ টি ডোঙ্গা বেচাকেনা হয় বলে জানালেন তুলারামপুরের বাসিন্দা মকতুল হোসেন।
যশোরের অভয়নগর থেকে তুলারামপুর হাটে আসা রকিব মোল্যা জানান, তিনি সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বড় সাইজের একটি ডোঙ্গা কিনেছেন। তিনি জানান, নৌকা দিয়ে সারাবছর বিল-খালে কিংবা কম পানিতে চলাচল করা যায় না।
ডোঙ্গা ব্যবসায়ী নড়াইল সদরের চরশালিখা গ্রামের সেলিম জানান, একটি তালগাছ ১৫শ' টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে কেনা হয়। ৩ জন শ্রমিক একদিন কাজ করে দু’টি  ডোঙ্গা তৈরি করতে পারেন। দু’টি ডোঙ্গা বিক্রি করে খরচ বাদে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাভ করা যায় বলে তিনি জানান।
তুলারামপুর ছাড়াও কালিয়ার চাচুড়ী ও রামসিদিতে এগুলো তৈরি ও বিক্রি করা হয়। এ শিল্পের সঙ্গে জেলার প্রায় ৫০জন কারিগর রয়েছেন বলে জানান তিনি

আরও পড়ুন