নড়াইলে সর্ষে ক্ষেতে মৌ চাষ বাড়ছে

আপডেট: 07:45:04 21/12/2016



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া(নড়াইল) : নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলা এলাকায় সর্ষে ক্ষেতে মৌমাছি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চলতি বছরে জেলায় সরিষাক্ষেতে মৌ চাষের জন্য ১৩টি খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর জেলায় রবি শস্য সর্ষের যেমন বাম্পার ফলন হবে, তেমনি ক্ষেতের মধু বিক্রি করে এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সর্ষে ক্ষেতে মৌমাছি চাষের জন্য সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় পুঁজির যোগান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং আহরিত মধু বিপণনের ব্যবস্থা করতে পারলে এ অঞ্চলে মৌমাছি চাষে আরো বেশি সাফল্য পাওয়া যেতে পারে।
সর্ষে ক্ষেতে মৌ-খামার করে মধু উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কবির বিশ্বাস বলেন, ‘সর্ষে ক্ষেতে মৌমাছি থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ফলন বাড়ে।’
কারণ হিসেবে তিনি জানান, মৌমাছি ফুলে যে পরাগায়ন ঘটায় তাতে সর্ষের দানা ভালো হয় এবং ফলনও বাড়ে। যে ক্ষেতে মৌমাছি থাকে না সেখানে সর্ষের ফলনও কম হয়। এ বছর নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলা এলাকায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সর্ষের আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দপ্তরটির সহযোগিতায় কালিয়া উপজেলায় দশটি মৌ-খামারে দুই হাজারেরও বেশি মধু সংগ্রহের বাক্স বসিয়েছেন কৃষকেরা। এ এলাকায় আগে এভাবে মধু উৎপাদনের প্রচলন ছিল না। গত বছর রোস্তম আলী নামে এক কৃষক সর্ষে ক্ষেতে মৌমাছি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ওই খামার দেখে এলাকার অনেকেই মধু চাষে অনুপ্রাণিত এবং আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
নড়াইল সদর উপজেলার আখদিয়া গ্রামের কৃষক সমশের আলী বলেন, ‘উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আকবর শেখের কাছ থেকে মৌ-খামারের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের সর্ষে ক্ষেতের পাশে ১৫টি বাক্স স্থাপন করেছি। গত বছর ১২ হাজার টাকার মধু বিক্রি করেছিলাম। আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক সর্ষে ক্ষেতে মৌ খামার গড়ে তুলছে। ’
লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের দড়ি মিঠাপুর গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘চার বছর ধরে আমি সর্ষে ক্ষেতের পাশে ২৫টি মৌ বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করে আসছি। গত বছর আমি ক্ষেত থেকে ২৮ হাজার টাকার মধু বিক্রি করেছি। এ বছরও মধু বিক্রি করে লাভবান হবো বলে আশা করছি।’
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম দৈনিক বলেন, ‘জেলার তিনটি উপজেলায় যতটা সর্ষের চাষ হয়ে থাকে, তার অর্ধেক চাষ হয় লোহাগড়া উপজেলায় । একযুগ আগে থেকেই লোহাগড়া উপজেলায় সর্ষে ক্ষেতে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে। এখানকার কৃষকদের মৌমাছি চাষের সাফল্য দেখে জেলার অন্য এলাকার কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।’
‘তবে সর্ষে ক্ষেতে মৌ চাষের সরকারিভাবে পুঁজির যোগান জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামীতে সর্ষে ক্ষেতে মৌ চাষের জন্য কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হতে পারে’, বলছিলেন আমিনুল ইসলাম।