নয় বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্ন

আপডেট: 01:46:02 06/05/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ দশ হাজার ৬২৯ জন।
মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে রোববার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের এই অনুলিপি হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরে ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করেন; যা বেলা দুইটা থেকে দেখা যাবে। তার আগে বেলা একটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।
গতবছর এ পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন।
সেই হিসেবে এবার পাসের হার ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ হাজার ৮৬৮ জন।
২০০৯ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে তা ২০১৪ সালে ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ হয়। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে পাসের হার আবার কমছে।
গত নয় বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম হলেও এ ফলাফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ দেখতে পাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী বাড়া এবং মেয়েদের ভালো ফল করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
নাহিদের মতে, বছরের প্রথম দিন সব স্কুলে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্রের অতি মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“খাতা দেখার অতীতের যে ত্রুটি ছিল, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা নেওয়ার ফলে একটা মান আমরা অর্জন করেছি। তবে আরো উন্নত করতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
পাসের হার কমা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এবার যেহেতু পরীক্ষারীর সংখ্যাও বেশি, সংখ্যার হিসাবে পাসের হার কিছুটা কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক না, কারণ ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করা, এটাও কিন্তু কম কথা না।”
তিনি উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং যারা পাস করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল ও বান্দরবান জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
# গত ১ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি এবারের এসএসসির তত্ত্বীয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়।
# দশ বোর্ডে এবার মোট  ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন।
# আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসিতে ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
# আটটি সাধারণ বোর্ডে এক লাখ দুই হাজার ৮৪৫ জন, মাদরাসা বোর্ডে তিন হাজার ৩৭১ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চার হাজার ৪১৩ জিপিএ-৫ পেয়েছে।
# গত কয়েক বছরের মতো এবারো পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে আছে ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ; আর ছাত্রদের ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
# তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে। ৫৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রীর বিপরীতে ৫৫ হাজার ৭০১ জন ছাত্র এবার পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে।
# মোট ২৮ হাজার ৫৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবার এক হাজার ৫৭৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
 
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ধারাবাহিকতায় এবারো এসএসসিতে অধিকাংশ বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার সকালে ফাঁস হয় এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে হলে বসা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি নানাভাবে কড়াকড়ি আরোপ করেও এসএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত ৩ মে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এসএসসির ১৭টি বিষয়ের মধ্যে ১২টিতে এমসিকিউ অংশের ‘খ’ সেটের প্রশ্ন এবার ফাঁস হয়েছে।
তবে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী ওই প্রশ্ন পেয়েছে বলে ধারণা হওয়ায় এবং সৃজনশীল অংশের কোনো প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায় তদন্ত কমিটি পরীক্ষা বাতিল না করার সুপারিশ করে।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন