নয় মাস বাড়িছাড়া দুই শতাধিক পরিবার

আপডেট: 03:16:51 09/01/2019



img
img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে লোহাগড়া উপজেলার পার-মল্লিকপুর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার দীর্ঘ নয় মাস বাড়িছাড়া। তারা হামলার ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
ভয়, আতংক আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং শহর এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। লুটপাট করা হয়েছে এসব বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পার-মল্লিকপুর গ্রামটি গ্রাম্য কোন্দলের উর্বর উপত্যকা। দীর্ঘদিন ধরে মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য হেমায়েত হোসেন হিমু সমর্থিত লোকজনদের সঙ্গে একই গ্রামের ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত মানুষজনদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে বিগত ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজনদের হামলায় ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মৃধা ও যুবলীগ নেতা ইকবাল মৃধা খুন হন। জোড়া খুনের রেশ ধরে হেমায়েত হোসেন হিমু সমর্থিত লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করে গ্রামছাড়া করে। এরপর ২০১৮ বছরের ২১ এপ্রিল পূর্ব বিরোধের জের ধরে হেমায়েত হোসেন হিমু সমর্থিত লোকজনদের আক্রমণে উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত টিউবওয়েল মিস্ত্রি খায়ের মৃধা খুন হন।
এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল ঠাকুরের লোকজন আসামিপক্ষের লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করে। এ সময় হিমু পক্ষের সমর্থকদের অন্তত দুইশ বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুলে নেওয়া হয়েছে বাড়িঘরের জানালা, দরজাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের মাতব্বর হেমায়েত হোসেন হিমু জানান, গ্রাম্য কোন্দলের জের ধরে উজ্জ্বল ঠাকুর সমর্থিত লোকজন মজিবর মৃধা, তজিবর মৃধা, নূর ইসলাম মৃধা, রাসেল মৃধা, মুক্তার মৃধা, নাইম মুসল্লি, ইকবাল মৃধা, হুমায়ুন মৃধা, কায়েম মৃধা, ওলিয়ার শেখ, খোকন মুসল্লি, তবিবর মোল্যাসহ ১৮টি পরিবারের পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাদশা মৃধা, লুৎফর মৃধা, হোমেত মৃধা, বিপ্লব শেখ, লিটু শেখ, হেমায়েত হোসেন হিমু, রাজা মৃধা, জামাল মোল্যা, এনায়েত মোল্যা, আমিনুর রহমান বাবলু, মজিবুর রহমান শেখ, নান্নু শেখ, শুকুর শেখ, সামাদ শেখ, হোসেন শেখ, টফি শেখ, সোহরাব শেখ, এরশাদ শেখ, নাজির মৃধা, পান্নু মৃধা, ইলিয়াস মৃধা, হাই শেখ, বালাম শেখ, সাহিদ কাজী, ওলিয়ার রহমান কাজী, আকরাম মুন্সী, রিজ্জাক মুন্সী, হাসান বিশ্বাস, রেজাউল বিশ্বাস, জলিল শেখ, কাফী মৃধা, মফিজ মৃধা, ইকরাম মৃধা, খোকন মুসল্লি, আব্দুল্লাহ সরদার, আকরাম সরদার, লাহু মুন্সী, আনোয়ার গাজী, দবির উদ্দিন শেখ, কামাল মোল্যা, আছলাম মোল্যা, ইউনুছ কাজী, হামিম কাজী, রাজা মিয়া, হিরু শেখ, হাসান শেখ, সুমন শেখ, রবিন শেখ, ছিকুল মোল্যাসহ আরো অন্তত সাতটি আধা পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ওহিদুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর শিশু থেকে বৃদ্ধরা পর্যন্ত গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও শহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর বলেন, ‘২০১৬ সালে হেমায়েত হোসেন হিমু গ্রæপের নূর ইসলাম ও ইকবাল মৃধা খুন হয়। তখন আমাদের পক্ষের বাড়িঘর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল। এবার আমাদের পক্ষের খায়ের মৃধা মার্ডার হওয়ার পর আমাদের লোকজন ওদের কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।’
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রবীরকুমার বিশ্বাস বলেন, ওই গ্রামে বিবদমান দুটি পক্ষকে মিলে মিশে বসবাস করার জন্য বলা হয়েছে। ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খুব শিগগির ওই গ্রামে শান্তি সভা আহ্বান করে দুপক্ষের সহাবস্থান করার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন