পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন প্রধান শিক্ষক

আপডেট: 02:35:56 10/04/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া নয় বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আর অভিযুক্ত স্বয়ং প্রধান শিক্ষক পদাধিকারী; তার নাম লুৎফর রহমান।
লুৎফর উপজেলার খড়িঞ্চি গ্র্রামের মৃত ফকির কবিরাজের ছেলে। তিনি মাহমুদকাটি-রঘুনাথপুর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। আর মেয়েটি পড়ে অন্য একটি প্রাইমারি স্কুলে। এই ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক গা-ঢাকা দিয়েছেন।
ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় থানায় আসেন। রাত সাড়ে দশটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
শিশুটির স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যার পর উপজেলার গালদা সরদারপাড়ায় ওয়াজ মাহফিল চলছিল। ওই শিশুটি সেখানে মাহফিল শুনতে যায়। লুৎফর রহমানের সঙ্গে শিশুটির দাদার পূর্ব পরিচয় আছে। সেই সূত্রে লুৎফর মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাত আটটার দিকে ফুঁসলিয়ে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে এনে গালদা গ্রামের জনৈক সোহানের বাড়ির পাশে ফেলে ধর্ষণ করে।
মেয়েটির মা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর মেয়ে বাড়ি এসে কান্নাকাটি করতে থাকে। আমি কারণ জানতে চাইলে আমাকে সব খুলে বলে। লোকলজ্জায় সাথে সাথে থানায় আসিনি। পরে অনেক ভেবেচিন্তে মামলা করতে আসলাম।’
তিনি অভিযোগ করেন, লুৎফর মাস্টারের চরিত্র ভালো না। মেয়েমানুষ দেখলে ওনার মাথায় কাজ করে না।
মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) এস এম এনামুল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি তাতে মনে হচ্ছে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। থানায় মামলা হচ্ছে। মঙ্গলবার শিশুটির মেডিকেল হবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, এই লুৎফর মাস্টার বহু আগে উপজেলার রোহিতা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তখন একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার চাকরি চলে যায়। নিজের ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও বেশ কয়েক বছর আগে ইত্যা গ্রামের একটি অল্পবয়সী মেয়েকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে পাশের গোয়ালদহ বাজারে ভাড়া ঘরে ওঠেন তিনি। সেখানে দুই-তিন দিন সংসার করার পর মেয়েটিকে ফেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে মেয়েটির স্বজনরা তাকে ধরে এনে উঠোনের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন।
এছাড়াও লুৎফরের বিরুদ্ধে বহু নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আরও পড়ুন