পরিস্থিতি কূটনীতিকদের জানালো বিএনপি

আপডেট: 01:55:19 08/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়ন ও তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করে এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বিএনপি। পরে ২০-দলীয় জোটের বৈঠকেও দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। এ সময় সরকারের হস্তক্ষেপে খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা সৃষ্টি ও কারাগারে তার সুচিকিৎসা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের হামলা, মারধরের কিছু ভিডিও, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন কূটনীতিকদের দেখানো হয়। ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় বিএনপির নেতাদের জড়িয়ে মামলা দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়। এ সময় তিন সিটি নির্বাচনে পুলিশের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকদের জোর জবরদস্তি ও নানা অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়।
বৈঠকে খালেদা জিয়ার মামলা এবং তার বিচার কার্যক্রম নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ব্রিফ করেন। তারা বলেন, ছয় মাস ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া চারটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চীন ও ভারতের কোনো কূটনীতিক বৈঠকে ছিলেন না।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের নেতা মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন, এ জে মোহাম্মদ আলী, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতকে টিপ্পনী
কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ২০-দলীয় জোটের বৈঠক হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত দলের এক নেতাকে লক্ষ্য করে শরিকদের কেউ কেউ টিপ্পনী কাটেন। একটি দলের নেতা জামায়াতের প্রতিনিধি আবদুল হালিমকে বলেন, ‘কোথায় গেল আপনাদের ৪০ হাজার ভোট?’
আরেক নেতা বলেন, ‘আমাকে নিলে তো আরো দুই হাজার ভোট বেশি পেতেন।’
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শেষ দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট সিটি নির্বাচনের আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তোলেন। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ২০-দলের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীই জোটের প্রার্থী। এর কিছুক্ষণ পর জামায়াত এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয় এবং বিস্ময় প্রকাশ করে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত জামায়াতের প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, জামায়াতের ওই বিবৃতিতে তিনি অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। তার এই প্রতিক্রিয়ার কথা যেন তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানান।
সূত্র : প্রথম আলো

আরও পড়ুন