পরীক্ষা বাতিল, ফিসের টাকা ফেরতের নির্দেশ

আপডেট: 05:22:36 24/04/2019



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক গোপলচন্দ্র দাস ওই বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করার এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিসের নামে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিকল্পে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করবে। অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা ২২ নভেম্বর থেকে ৪ জুলাই এবং বার্ষিক পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর গ্রহণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র কিনে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা না মেনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২৩ এপ্রিল প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার ফিস বাবদ ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২২০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫০ টাকা হারে আদায় করা হয়।
ওই বিদ্যালয়ে সরজমিনে গেলে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলে, সরকারের নির্দেশনা রয়েছে অর্ধ-বার্ষিক এবং বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্দেশনা না মেনে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং দশম শ্রেনির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিস বাবদ ৪৯০ টাকা হারে আদায় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিদ্যালয়ে এসে তারা জানতে পারে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে এবং ফিসের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
অপরদিকে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছে, চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসের প্রথম দিকে শিক্ষকরা তাদের হাতে বইয়ের তালিকা ধরিয়ে দিয়ে গাইড বই কিনতে বাধ্য করেছেন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বলেন, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) থেকে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফিসের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত মান্নান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর পরীক্ষা বন্ধের এবং ফিসের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যদি ফিসের টাকা ফেরত না দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপালচন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পরীক্ষা বন্ধ এবং ফিসের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য শিক্ষকদেরকে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন