পলিয়ার ওয়াহিদের ছয়টি কবিতা

আপডেট: 09:01:39 30/06/2017



img

সময়গুলো ঘুমন্ত সিংহের

বাবা-মা চাইতো—আমি যেন মেষের মতোন নম্র
ও মেষশাবকের ন্যায় শান্ত হই।
বহিরাবরণ অবিকল কয়লা হলেও
দিনের মতোন উজ্জ্বল আমার শৈশব।
কৈশোর ছিল প্রজাপতির মতো চঞ্চল
যৈবন—মৌমাছির মতো তৎপর
চাতকের মতো প্রসন্ন—স্কুল বন্ধুরা
প্রতিজ্ঞায় আমি পাথর
অথচ মানবিকতায় ঘাসের মতো সবুজ
অহমে ছিলাম—খচ্চরের মতো জেদী
সরলতায় রয়না মাছের মতো হাবা
বিড়াল ছানার মতো ক্রীড়ামোদী হলেও
মৃত্যুর মতো নিশ্চিত জানতাম—আমি কবি!
ফুটন্ত ফুলের মতোন ছিলাম কর্মময়
আমার সময়গুলো—
ঘুমন্ত সিংহের মতো—ননপ্রতিবাদী
বান্ধবীরা জানে কামনায়
বাজপাখির মতোন ক্ষুধার্ত হলেও
ময়ূরের মতোন বিলাসী প্রেমিকার কাছে
হয়ে পড়ি—কবরের মতোন নীরব!
ফলত কামনার দানাগুলো
তাদেরই বাসনার আঁচলে বুনে রাখি—
যেন বণিকের ক্যাশ বাকশোর চাবি
কিন্তু আমি চিরকাল খরগোশের মতোন দ্রুত
আর বাতাস এবং পাখির মতো স্বাধীন!




মড়কে আক্রান্ত বীজ

কোথাও দেখছি নাতো নতুন বীজের আভা
শুদ্ধ বীজ ছাড়া বল কীভাবে মিলবে চারা?
বিশুদ্ধ জমিনের অভাব! সব হিংস্র লাভা
জুলুম বেড়েছে তাই ঝরে আকাশের তারা!

কারা তবে রাখবেন? সঞ্চয় করবে ফল
শুকায়ে ফাটছে নদী; কোথায় সুস্বাদু জল?
স্রোতের টানেই যেন গা ভাসানো লাভ-ভাব
কোথা কারো দায় নেই সব উলম্ফ স্বভাব!

পাখির গানেও যেন সুর নেই—সব মিছে
কেউ কিছু বলে নাতো, কথা যেন ফুরায়েছে
দেশেপ্রেম চেতনার কথা—বুলি হয়ে গেছে!
সাপের খোলস ছেড়ে তারা রূপ নিছে বিছে

মড়কে আক্রান্ত বীজ, নেইতো কিছুই খাঁটি
কোথাও কি আছে ছাই? সব কিছু আজ মাটি!




গৃহবিষয়ক

আমাদের ব্যথাগুলো শ্যাওলা ছড়ানো পুরনো পুকুর!
আমাদের স্বপ্নগুলো জংধরা কাঁসার থালার মতো চ্যাপ্টা!
তামার কড়াইয়ের মতো সুগোল আমাদের জীবন!
যাপনের কাঁচকলা রান্না হয়—আদাসমেত

মহুয়া মেয়েকে পড়াচ্ছে—ভূগোল
বলছে—পৃথিবী পাতলা ডালের মতোন ঝুলোনো
এবং সুস্বাদু! আর ছেলেকে মুখস্ত করাচ্ছে—
‘দেশপ্রেম’ হলো—দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।
অন্যদিকে শত্রুরা জানান,—মাতৃভূমি
বেদানার মতো টকটকে গাঢ়!
যা বায়বীয়তায় গড়াগড়া খায়!





শৌর্যবতী

নারীবাদ পৃথিবীর শুধুই চালাকি
ধর্মগুলি সর্বময় দরিদ্র স্বভাবে
গ্রন্থগুলো বারবার পড়েছে অভাবে
শুরুতে মানুষ মানি—তবে সমাপ্তি কী?

স্বাধীনতা যুদ্ধ আর যত রক্তাবলী
সবকিছু অভিনয় ক্ষমতার গালি
কাকে কে ভাঙাবে হায় মাকাল চতুর
নিজেকে চেনে না কানা বড়ই ফতুর

মেঘের শরীর ছেনে বলেছে—আকাশ
নক্ষত্র তারকারাজি বৃক্ষতে উপুড়
কিনতে পারেন তিনি—নরম বাতাস?
রক্তের শাড়িতে দ্যাখো—পুরনো অসূর

নারীকে নারীর সাজে লাগে তো মধুর
হোক সে স্বাধীনকামী কুসুম বধূর
চিন্তায়—মননে মধু—হোক না উদার
চুল খাটো করে কেন সাজো নর-ধার?

আমগাছে কখনো কি ফলে নারকেল?
বৈশিষ্ট্য থাকে না যার সে তো বর্ণচোরা
তোমরা ধরণীমাতা নয় বাইবেল
তুমি ছাড়া স্বর্গ-মর্ত্য হাহাকার জোড়া!




অমার্জিত

তোরা তবে নিয়ে থাক পতাকা ও লাল
রেখে যাবো—পৃথিবীতে নতুন কোদাল

ইতিহাস মনে রাখে দেখি—কোন বাল
ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে ডেকে যাবে আচোদা ছাগাল!

অপর মুখেতে খেয়ে—লাগে যদি ঝাল
চালনি বলছে সুঁই—তোর পিছে খাল!




বহুমূত্র দেশপ্রেম

একটা মাটির ব্যাংক কিনি মহোদয়
জমা করি দেশপ্রেম অতি মহাশয়
কুমারীর জন্য যেই কাঁচল কিনেছি
তা নাকি হয়েছে ছোট!
কছম ছুঁইনি তার...আবরণ ঢাল
তবু সে বলছে—দিনকাল যা পড়েছে
কার হাত যে কখন কোথা গিয়ে পড়ে
হাইব্রিড কালে বেহুদায় বেড়ে যাচ্ছে সব!
কি স্ত্রীর শরীর; কিংবা বহুমূত্র রোগ!
তবুও হাসছে রাণী—অসুখের হাসি
সেখানে দেশপ্রেমের শরীরও ভালো!
আমি একদম কিন্তু বিশ্বাস করিনি!
এই হেতু—রাণীদের সত্যি বলবার ইতিহাস নেই!


[পলিয়ার ওয়াহিদ : জন্ম ২৬ ফাল্গুন ১৩৯২; ২০ মে ১৯৮৬ । জন্মস্থান : পাথরঘাটা, পাঁজিয়া, কেশবপুর, যশোর। বাবা গোলাম মোস্তফা সরদার ও মা ছাবিয়া বেগম। মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। পেশায় সাংবাদিক। বাস করেন ঢাকায়। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : পৃথিবী পাপের পালকি (২০১৫), ম প্রকাশন। সিদ্ধ ধানের ওম (২০১৬), দোয়েল প্রকাশনী। হাওয়া আবৃত্তি ২০১৬, চিরকুট, ষোলপৃষ্টা প্রকাশন, জাবি। কিশোর কবিতা : মানুষ হবো আগে (২০১৭), দোয়েল প্রকাশনী।]