পাঁচ তলায় বীজতলা!

আপডেট: 01:37:56 11/12/2017



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার তামিনগর গ্রামের কলেজশিক্ষক খবির উদ্দিন পাঁচ তলার ছাদের উপর বীজতলা তৈরি করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজ বাড়ির ছদের ওপর এ বোরো বীজতলা তৈরি করেছেন।
খবির উদ্দিন জানান, তার চাষযোগ্য ১২ বিঘা জমি আছে। সেই জমিতে চাষ করার জন্যই তিনি এ বীজতলা তৈরি করেছেন।
১২০টি ট্রেতে ১২ কেজি ধানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে ছাদে। এতে ঘরের ছাদের ৭০০ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা তুহিনের পরামর্শে ঘরের ছাদে এ ট্র্রে পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে রোপণ করলে ৬০ দিন গাছ বাড়ার সময় পায়। এতে প্রতিটি গাছ অনেক কুশি ছাড়ার সময় পেয়ে থাকে। যার ফলে ফলন বাড়ে। আর বাড়ির মেয়েরা অবসর সময়ে এ বীজতলা তৈরি করতে পারে।’
‘শুধু সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় তিনবার সময় করে পানি দিলেই চলে। এতে খরচ ও সময় কম। আবার খুব সহজে চারা রোপণ করা যায়। চারা পুষ্ট হয় বলে গাছের বাইল শক্তিশালী হয়। ছড়ায় ধান বেশি আসে। সব মিলিয়ে এ পদ্ধতি কাজে লাগানো গেলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব বলে আমার মনে হয়।’
ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয়কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ট্রের ওপর বীজতলা তৈরি করা হয়। ট্রেতে আধা ইঞ্চি পুরু করে মাটি দিতে হয়। এরপর সামান্য গোবর সার দিয়ে ধানবীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে চারাগুলো ৪-৫ ইঞ্চি বড় হয়। এ চারা রোপণ যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষেতে রোপণ করতে হয়। আর মাঠে বীজতলা তৈরি করলে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে চারা রোপণ-উপযোগী হতে।’
শৈলকুপা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ট্রেতে বীজতলা তৈরি করলে ফলন বেশি এবং উৎপাদন খরচ কম হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নতুন এ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে হস্তান্তর করছেন। তবে এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকজন চাষি এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
কর্মকর্তারা বলছেন, ছাদে ছাড়াও একই পদ্ধতিতে বাড়ির উঠোনেও বীজতলা তৈরি করা যায়।
শিক্ষক খবির উদ্দিনের ছাদের বীজতলা এলাকায় সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন চাষিদের অনেকেই দেখতে আসছেন অভিনব এই বীজতলা।