পাইকগাছার দুই-তৃতীয়াংশ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক

আপডেট: 05:09:04 21/11/2016



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরিপে উপজেলায় মোট ৮১ জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই উপজেলার ১২ হাজার ৪৯১টি নলকূপের মধ্যে আট হাজার ৭৬টিতে মাত্রাতিরিক্তি আর্সেনিক রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় লোকসংখ্যা প্রায় চার লাখ। পানীয় জলের জন্য উপজেলার প্রায় প্রতি বাড়িতে নলকূপ রয়েছে; যার দুই-তৃতীয়াংশেই মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ১২ হাজার ৪৯১টি নলকূপ পরীক্ষা করে আট হাজার ৭৬টির পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইউনিয়নভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী হরিঢালীতে ৬৮%, কপিলমুনিতে ৭৮%, লতায় ৭৭%, দেলুটিতে ৪৬%, সোলাদানায় ৭৯%, লস্করে ৭৬%, গদাইপুরে ৪৮%, রাড়–লীতে ৬৮%, চাঁদখালীতে ৭২%, গড়ইখালীতে ৬৩% এবং পৌরএলাকায় ১৯% নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে।
এদিকে ২১৪টি গ্রামের মধ্যে ৯৫টি গ্রামে সর্বোচ্চ ৮০% নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছেন।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রভাতকুমার দাশ বলেন, ‘দুই বছর পর পর আর্সেনিক শনাক্তের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন।’
বক্তব্য জানার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ওই অফিসে কর্মরতরা জানান, প্রকৌশলী পাইকগাছা উপজেলা ছাড়াও আরো চারটি উপজেলাতে দায়িত্ব পালন করায় তিনি এখানে নিয়মিত অবস্থান করতে পারেন না।
এর আগে ২০১০ সালের পরীক্ষায় আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫। ২০১৩ সালে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫; যা বর্তমানে ৮১-তে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন