পাইকগাছায় এখনো অনেক পরিবার আশ্রয়হীন

আপডেট: 04:35:47 13/04/2019



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় কালবৈশাখি ঝড়ের তিনদিন অতিবাহিত হলেও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবার এখনো কোনো সহায়তা পায়নি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নেননি কোনো জনপ্রতিনিধিও। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাস করছে খোলা আকাশের নিচে।
এলাকাবাসী জানান, চলতি মৌসুমে একের পর এক আঘাত হানছে কালবৈশাখি। এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে সপ্তাহে কালবৈশাখি আঘাত হানছে না। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখি আঘাত হানে এলাকায়। এ বছর এখনো পর্যন্ত এটিই ছিল ঝড়ের বড় আঘাত। উপজেলার প্রায় সব এলাকায় এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দশটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাঁদখালী। ওড়াবুনিয়া, ফেদুয়ারাবাদ, ঢেমশাখালী, গড়েরআবাদ, কৈয়াসিটিবুনিয়া, গজালিয়া, পূর্ব গজালিয়া, বাদুড়িয়া, দেবদুয়ার, কৃষ্ণনগর, সাহাপাড়া, মৌখালী, কমলাপুর, ধামরাইল, ফতেপুর, চাঁদখালী, কানুয়ারডাঙ্গা, কাটাখালী বাজার ও মালোপাড়াসহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা কালবৈশাখিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটি ও টিনের তৈরি বেশির ভাগ ঘরের চাল উড়ে যায়। এতে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হন এলাকার গরিব মানুষেরা। আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝড়ের তিনদিন অতিবাহিত হলেও শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি। কোনো জনপ্রতিনিধিও তাদের খোঁজ নেননি। ফলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর এখনো অনেকেই মেরামত করতে পারেননি। এই সব লোক খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ওড়াবুনিয়ার আরতি সানা ও পূর্ব গজালিয়া গ্রামের শামছুর রহমান গাজী জানান, কালবৈশাখিতে তাদের বসতঘরের চাল উড়ে গেছে; যা এখনো অর্থাভাবে মেরামত করা যায়নি।
কৈয়াসিটিবুনিয়া গ্রামের তনজিলা বেগম (৬০) জানান, তিনদিন পার হলেও এখনো তারা কোনো সহায়তা পাননি। এমনকি, কেউ খোঁজ নিতেও যাননি।
আব্দুল্লাহ গাজী নামে আরেক ব্যক্তি জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে গত তিনদিন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা জি এম ইকরামুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক স্থানে গেছি। কালবৈশাখিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। অসংখ্য পরিবার এখনো ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে পারেনি। এসব দরিদ্র পরিবারের জন্য টিন ও অন্যান্য সামগ্রীসহ সরকারি সাহায্য জরুরি প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন