পাইকগাছায় বহু প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক পদ শূন্য

আপডেট: 02:42:18 18/10/2016



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাতটি প্রধান শিক্ষকসহ ৫৫টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে পাঁচ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেলার পাইকগাছায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬৫। যার মধ্যে ৪৯টি বিদ্যালয়ের ৩৭টি প্রধান শিক্ষক, ১২টি বিদ্যালয়ে ১৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধা ও পছন্দমতো জায়গায় বদলি হওয়ার কারণে সহকারী শিক্ষকদের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চলছে। আবার বেশি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হোগলারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের সংখ্যা তিনটি। এখানে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এছাড়া, কালুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদ ৩, কর্মরত ১, শূন্য ২, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৭। মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদ ২, কর্মরত ১, শূন্য ১, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৬।
এদিকে, মাত্র ৩৯ জন ছাত্র নিয়ে কুমখালী বি বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন চারজন। এই স্কুলে সরেজমিনে যায়, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সাতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এদিন প্রথম শ্রেণিতে তিনজন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিনজন, পঞ্চম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিশু, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি।
এছাড়া উপজেলার সোনাতনকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাঁড়িয়া খাসমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ সোনাতনকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমুরকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটকেলপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খড়িয়া খালপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব কাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লতা লধাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোগলারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বি বি শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেবদুয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তোকিয়া গোলাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগুলারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।
নতুন জাতীয়করণ হওয়া দক্ষিণ হরিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুমখালী গিরিধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিরবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাইনবাড়িয়া সন্দ্বিপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াই দারুনমল্লিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কানাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমখালী প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ আমিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিগরদানা এসএফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমখালী বি বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরা দেলুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গদারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খড়িয়া মিনাজচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেদুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁকা জাগরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের এক বা একাধিক পদ শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা-মোকদ্দমাজনিত কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ফলে কিছুই করা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন