পাইকগাছায় বাঁধ মেরামত হয়নি, ভাঙন বিস্তৃত হচ্ছে

আপডেট: 02:39:18 05/12/2017



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় কোটি টাকার বেশি সম্পদ-সম্পত্তি কপোতাক্ষে হারিয়ে গেলেও বাঁধ মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রায় একমাস চলে গেলেও বাঁধ সংস্কার না করায় অবাধ জোয়ার-ভাটায় মাটি ক্ষয়ে গভীর হচ্ছে কৃষি জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্যাপক এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় আরো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা বাঁধ দ্রুত সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
উপজেলার বোয়ালিয়া চরের বিলের পাউবো ভেড়ি বাঁধে গত ৪ নভেম্বর ভাঙন দেখা দেয়। তখনই পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত রোববারের জোয়ারে ১৬ নম্বর পোল্ডারের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভেসে যায় দুই হাজার বিঘার ৮০টি চিংড়ি ঘের। তলিয়ে যায় শত শত একর আমন ক্ষেত। চিংড়ি ঘের মালিকদের তৈরি করা গেট অপসারণ করার পর উপযুক্তভাবে নির্দিষ্ট জায়গাটি মেরামত না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, ওই সময় সামান্য টাকা খরচ করে অপসারিত গেটের জায়গাটি মেরামত করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় বাঁধের দিকে নজর না দেওয়ায় বাঁধের ব্যাপক এলাকাজুড়ে ফাটল দেখা দেয়। দ্রুত বাড়ছে ভাঙন। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী আবারো বড় ধরনের ভাঙনের আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভেরও সঞ্চার হচ্ছে।
স্থানীয় চিংড়ি চাষি আবুল হোসেন মোড়ল অভিযোগ করেন, বাঁধের ভাঙন এলাকা প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হলেও এখনো বাঁধ মেরামতের জন্য কোনো তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। এ ভাঙনে ইতিমধ্যে বোয়ালিয়া থেকে আগড়ঘাটা পর্যন্ত দুই হাজার একরের ৮০টি চিংড়ি ঘেরের লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। শতশত বিঘা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. নুরুল হকসহ কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন জানান, টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত যাতে বাঁধ মেরামত হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন