পাইকগাছায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ

আপডেট: 04:35:09 06/06/2018



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় এবার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে পানের দাম অনেক বেশি হওয়ায় চাষিরা অধিক লাভের আশা করছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর পানের বরজ রয়েছে। যার মধ্যে রাড়ুলীতে ৯০ হেক্টর, হরিঢালীতে ৫০ হেক্টর, কপিলমুনিতে দশ হেক্টর। এই এলাকার জলবায়ু পান চাষের উপযোগী হওয়ায় এই আবাদে ঝুঁকছেন চাষিরা। প্রচলিত অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ বাদ দিয়ে অনেকে পান চাষে এগিয়ে এসেছেন। ফলে প্রতি বছর আবাদ ও চাষি বাড়ছে।
বাজারে পানের দাম এ বছর অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর পান চাষিরা বেশি লাভের আশা করছেন।
রাড়ুলী ইউনিয়নের কাটিপাড়া গ্রামের লক্ষ্মণ দাশ বলেন, ‘আমি প্রায় দশ বছর ধরে পান চাষ করছি। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে আমার পানের বরজ রয়েছে। পান চাষের মাধ্যমে সংসারের যাবতীয় খরচসহ চারটি সন্তানের লেখাপড়া শেখাচ্ছি। আমার বড় মেয়ে অনার্স, মেজ মেয়ে এইচএসসি ও সেজ মেয়ে এসএসসিতে পড়ছে। এদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগান দিয়েও পান চাষ করে প্রতি বছর অনেক টাকা আমি সঞ্চয় করি। বিগত বছর যে পানের পন ৫০ টাকা বিক্রি হতো, এবছর তা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদিত পান কপিলমুনি, কাছিঘাটা ও ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করি। এ বছর দাম বেশি হওয়ায় বিঘা প্রতি লাভ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।’
ল²ণ দাশের মেয়ে পুজা দাশ ও পিয়ালী দাশ জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে পানের পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাত প্রক্রিয়া পর্যন্ত সহযোগিতা করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখানকার পানের মান ভালো হওয়ায় বেশির ভাগ ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। কাঠা প্রতি ১৮০ পন পান উৎপাদিত হলে যা প্রায় ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
অন্যান্য যেকোনো বছরের চেয়ে এবছর পানের পাইকারি দাম বেশি হওয়ায় পান চাষিরা অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর।

আরও পড়ুন