পাট চাষে ক্ষতি যশোরের কৃষকদের

আপডেট: 02:00:03 12/09/2017



img

ওয়াজেদ খান ডবলু : এবার যশোর অঞ্চলে পাটের উৎপাদন ভালো হলেও সঠিক দাম না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।
চলতি বছর যশোর জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল ৩০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৪০০ হেক্টরে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, এতে পাট উৎপাদন হয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
কৃষকরা জানান, একবিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তাদের কমপক্ষে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু খোলাবাজারে পাট মণপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দামে পাট বেচে উৎপাদন খরচ ওঠে না।
কেশবপুর উপজেলার ভরতভায়না গ্রামের কৃষক আবদুস সাত্তার ও কাশিমপুর গ্রামের হযরত আলি জানান, এবছর প্রতি বিঘা পাট চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় আট হাজার টাকা। সে তুলনায় বাজারে পাটের দাম কম। তারা পাট চাষে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
মণিরামপুরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাধন বিশ্বাস জানান, একবিঘা জমিতে পাটের আবাদ করতে কৃষকের খরচ হয়েছে সাত হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা। বর্তমানে ওই পাট বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে।
তবে, পাটের নিম্নদরে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে বলে মানতে নারাজ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এবছর যশোর জেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানির ঘাটতি ছিল না। ফলে যশোরে পাট চাষ ভালো হয়েছে। দামও মোটামুটি ভালো। এছাড়া এবার সরকারিভাবে পাটের মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় বাজারে তা বিভিন্ন মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।’
চাষিদের আক্ষেপ, তারা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে, টাকা খরচ করে পাট উৎপাদন করেন। সেই পাটের মাধ্যমে আসে কাঁড়ি কাঁড়ি বৈদেশিক মুদ্রা। অথচ তারা বছরের পর বছর লোকসান দিয়েই চলেছেন।

আরও পড়ুন