পানির দরে ঝিনাইদহের কাঁঠাল

আপডেট: 09:24:38 12/07/2017



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট মহেশপুরের খালিশপুরে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে একেবারে পানির দরে। বাজারে কাঁঠালের আমদানি বেশি হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বড় সাইজের (দশ কেজির বেশি) বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর মাঝারি সাইজের কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২০ টাকায়। অনেক কৃষক তাদের কাঁঠালের দাম না পাওয়ায় গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
জাতীয় ফল কাঁঠাল আকারে বড় এবং পুষ্টিগুনও প্রচুর। কাঁঠালের কোনো অংশই অপ্রয়োজনীয় নয়। পাকা কাঁঠালের কোষ সুস্বাদু। বাকল গবাদি পশুর খাদ্য। বীজ ও কাঁচা কাঁঠাল সবজি মানুষের খুবই পছন্দ।
ঝিনাইদহ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কাঁঠালগাছের জন্য উপযোগী। এখানে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এক বা একাধিক কাঁঠালগাছ আছে। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভিত্তিতে কাঁঠাল চাষ করছেন। কাঁঠালগাছ তেমন পরিচর্যা করতে হয় না।
জেলায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারে সপ্তাহে দুইদিন কাঁঠালের হাট বসে। শুক্র ও সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে কাঁঠাল কেনা-বেচা। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে এই হাট থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যান।
এবার প্রতি হাটে এখান থেকে প্রায় ১০০ ট্রাক কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম একেবারের কম। অন্য বার যেখানে বড় সাইজের একটি কাঠাল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এবার মাত্র ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২০ টাকায়।
খালিশপুর কাঁঠালের হাটে গিয়ে দেখা যায়, শ্যালোইনজিনচালিত কয়েকশ নসিমস, ভ্যানে কাঁঠাল আনা হয়েছে। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত বাজারে কোনো ক্রেতা/কাঁঠাল ব্যবসায়ীকে দেখা যায়নি। কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের দুধারে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকরা কাঁঠাল বিক্রির অপেক্ষায়।
স্থানীয় কাঠাল ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট খালিশপুর বাজার। এখানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, যশোরের চৌগাছা এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এখান থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যান।
কাঁঠাল চাষি বজরাপুর গ্রামের জয়নাল হোসেন জানান, তার ২৯টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এবার কাঁঠালের প্রচুর ফল হয়েছে। একেকটি গাছে ৫০-৬০টি কাঁঠাল ধরেছে। তার ২৯টি কাঁঠাল গাছে প্রায় দেড় হাজার কাঁঠাল ধরেছে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর বড় সাইজের কাঁঠাল বিক্রি করেছিলাম ৫০-৬০ টাকায়। আর এবার বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩০-৩৫ টাকায়। তাও আবার ক্রেতার অভাব।’
বেশ কয়েকজন কাঁঠাল ব্যবসায়ী ও কৃষক জানান, এলাকায় কাঁঠাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে সারা বছর এখান থেকে কাঁঠাল সরবরাহ করা যেতো।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জেলার অধিকাংশ বাড়িতে, বাড়ির আঙিনায়, পতিত জমিতে কাঁঠালগাছ রয়েছে। এছাড়াও অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠাল চাষ করছেন। কাঁঠাল গাছ তেমন একটা পানি সহ্য করতে পারে না। এ অঞ্চলের স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। যে কারণে ঝিনাইদহ জেলার সব উপজেলায়ই প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হয়।
তিনি আরো জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে প্রচুর কাঁঠাল ফলেছে।

আরও পড়ুন