পাহাড়-নদী পেরিয়ে ৪ শিশুসহ ৮ রোহিঙ্গা যশোরে

আপডেট: 02:18:59 14/09/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আট দিন আগে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রোহিঙ্গা যুবক জাহিদ হোসেন ও আজিজুল হক। পথে দালালের খপ্পরে পড়েন তারা।
কয়েকদিন ধরে পাহাড়, নদী পেরিয়ে তারা একটা নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর পর বুঝতে পারেন দালালরা তাদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটা স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন তাদের স্বজনরা রয়েছেন বাংলাদেশের টেকনাফ এলাকার কোনো একটি শরণার্থী শিবিরে। সিদ্ধান্ত নেন, ভারত থেকে বেনাপোল হয়ে শরণার্থী শিবিরে স্বজনদের কাছেই যাবেন তারা। সীমান্ত পারও হয়েছিলেন।
কিন্তু বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল সীমান্তের খলসী এলাকার একটি রাস্তা থেকে বিজিবি জাহিদ হোসেন ও আজিজুল হককে সপরিবারে আটক করে। আটক অন্যরা হলেন জাহিদ হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন (১৯), দুই বছরের ছেলে আরমান, নয় মাস বয়সী ছেলে ইমরান এবং আজিজুল হকের স্ত্রী আফসা (২৪), সাত বছর বয়সী ছেলে ইকবাল হোসেন ও চার বছর বয়সী ছেলে হাফিজুর ছিল।
বিজিবি এ আটজনকে আজই বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করে। পরে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে যশোর আদালতে হাজির করে। যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বুলবুল ইসলাম আট রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, নারী-শিশুসহ এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যশোর আদালতে নেওয়া হলে সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। আইনজীবী, আদালতকর্মীসহ অনেকেই তাদের কাছে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কাহিনি শুনতে চান। তাদের মুখে নির্যাতনের লোকহর্ষক কাহিনি শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান শ্রোতারা। যদিও রোহিঙ্গাদের কথা বুঝতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় জড়ো হওয়া শ্রোতাদের। যতটুকু বুঝতে পেরেছেন, তাতেই শ্রোতাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে। অনেকেই এই দুই অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও করেছেন।

আরও পড়ুন