পিডিবিএফের ভারপ্রাপ্ত এমডির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

আপডেট: 10:11:38 25/12/2017



img

খুলনা অফিস : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদনমোহন সাহা ও সৌরশক্তি প্রকল্প পরিচালক সহিদ হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণ দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের ‘চাকরি আছে বেতন নেই’ এমন সাড়ে তিনশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। পরে তারা চাকরিতে স্থায়ীকরণ ও নিয়মিত বেতনের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে মাবনবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
পিডিবিএফের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ড মো. সুমন হোসেন বলেন, সম্প্রতি কম্প্ট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সৌরশক্তি প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ অবৈধ উল্লেখ করে তাদের চাকরিচ্যুৎ করে গ্রহণ করা বেতন আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। তারপরও তারা বহাল আছেন। যোগদানের মাত্র এক বছরের মধ্যে তারা টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে লুটপাট করেছেন। খুলনার ডুমুরিয়াসহ দেশের পাঁচটি উপজেলা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর, টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরমধ্যে ডুমরিয়ায় দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকাসহ মোট সাত কোটি ৭৪ লাখ টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এ টাকা থেকে পাঁচ শতাংশ কমিশন খাত উল্লেখ করে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৬০ লাখ টাকা এবং সরবরাহ করা সোলার সিস্টেমে পুরনো ও নিম্নমানের মাল সরবরাহ করে টাকা তছরুপ করা হয়। সেই সঙ্গে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই খোলাবাজার থেকে মাল কেনা হয়। যে কারণে অতি দরিদ্র পরিবার, মসজিদ ও মন্দিরে দেওয়া সোলার সিস্টেম থেকে আলো পাচ্ছেন না সুবিধাভোগীরা। এছাড়া মদনমোহন সাহা প্রতিষ্ঠানের মামলা খরচের নামে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। আবার প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী যথারীতি মামলা খরচের বিল দাখিল করে তার সম্মানির টাকা তুলে নিয়েছেন। ‘পল্লী রং’ প্রকল্প থেকে বিপুল পণ্যসামগ্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে হস্তগত করে টাকা পরিশোধ করেননি। এছাড়া পিডিবিএফ সম্প্রসারণ প্রকল্পে লোক নিয়োগের ওয়েটিং লিস্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তিনি নিজের ক্ষমতাবলে ৩৮ জন কর্মী অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছন। যেখানে সোলার প্রকল্পের কর্মীরা অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন, সেখানে তিনি লোক নিয়োগ দিয়ে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তার পরিবার প্রতিষ্ঠানের তিনটি গাড়ি ব্যবহার করেন। একটি নিজে, একটি তার ছেলে, অন্যটি স্ত্রী। কিন্তু অফিসিয়ালি তার জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত এমডি একাই চারটি পদ দখলে আছেন। পদগুলো হলো : ভারপ্রাপ্ত এমডি, পরিচালক (অর্থ), পরিচালক (মানবসম্পদ) ও অতিরিক্ত পরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা)। অথচ তার অদক্ষতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ডুবতে বসেছে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত খেলাপি বেড়ে ২৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম বৈঠক সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অডিট নিরীক্ষায় ভারপ্রাপ্ত এমডি ও সৌরশক্তি প্রকল্প পরিচালকের নিয়োগ অবৈধ উল্লেখ করে তাদের চাকরিচ্যুৎ করে গ্রহণ করা বেতন আদায়ের যে সুপারিশ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি একমত পোষণ করে। অডিট রিপোর্ট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ অডিটের মন্তব্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এক মাসের মধ্যে মহা-হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সভার সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
এদিকে, সোলার কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রিট (৫১৩৮/এপ্রিল ২০১৭) দায়েরের কারণে পাঁচজনকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে রায় পাওয়ার পরও তাদের পুনর্বহাল করা হয়নি। সেই সঙ্গে সোলার প্রকল্পের ২৮৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ‘চাকরি আছে বেতন নেই’ অবস্থার মধ্যে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত তাদের চাকরি স্থায়ী ও বেতন নিয়মিত করার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন