পিতৃত্ব অস্বীকার, কথিত সেই প্রেমিক আটক

আপডেট: 02:48:59 10/07/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হওয়ায় ইসরাফিল (১৮) নামের সেই কথিত প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আইনুদ্দীন উপজেলার ছোট সালামাতপুরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন।
এরআগে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার দুপুরে ওই গ্রামে যান ইউএনও ওবায়দুর রহমান। তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সন্ধ্যার মধ্যে একটা সিদ্ধান্তে আসার জন্য ইসরাফিলের পরিবারকে আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে কোনো সিদ্ধান্তে না আসায় ইসরাফিলকে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন ।
ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ইউএনও স্যার ওদের সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। স্যার চলে যাওয়ার পর বিকেল থেকে আমি ওই গ্রামে ছিলাম। আমি ইসরাফিলকে একা ডেকে নিয়ে আধা ঘণ্টা কথা বলেছি। সে ওই কিশোরীর গর্ভে থাকা সন্তান নিজের বলে স্বীকার করে না। তাই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, 'পুলিশ ওকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ছেলেটির অভিভাবক পক্ষ আমার কাছে আপসের জন্য এসেছে। আমি বলে দিয়েছি, উপযুক্ত কাবিনের বিনিময়ে ওই মেয়েকে ঘরে নিতে রাজি হলেই এই বিষয়ে আলোচনা হবে, অন্যথায় নয়।’
এসআই আইনুদ্দীন ইসরাফিলকে আটকের কথা সরাসরি স্বীকার করেননি। তবে তিনি বলেছেন, রাতের মধ্যেই এই বিষয়ে একটা সমঝোতা হবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান রাত দশটার দিকে সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘সন্ধ্যায় আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছি। এরপর আর তারা আমাকে কোনো খবর জানাননি।'
প্রসঙ্গত, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মণিরামপুরের ছোট সালামতপুরের হায়দার আলী খাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে ইসরাফিল তার চাচাতো বোন নবম শ্রেণির কিশোরী ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। গত দেড় বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলে আসছে। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। তখন কেশবপুরে একটি ক্লিনিকে ওই সন্তান নষ্ট করায় ইসরাফিল। কিন্তু তাদের অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। ফলে দ্বিতীয় দফা অন্তঃসত্ত্বা হয় মেয়েটি।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে রোহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের পক্ষ নেন। এরপর থেকে ওই কিশোরীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

আরও পড়ুন