পুলিশের ধাওয়ায় পালানো যুবক গুলিবিদ্ধ লাশ

আপডেট: 06:35:17 15/05/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছী-মাখালডাঙ্গা এলাকার একটি মাঠ থেকে সাকিব হাসান সান (২৫) নামে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সান চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়া এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বেলগাছী-মাখালডাঙ্গা রাস্তার গঙ্গাচরা মাঠে একটি গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনিকে জানান। কাউন্সিলর পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার সন্ধ্যার আগে সান মুসলিমপাড়ায় তার ফুপুর বাড়িতে ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের ধাওয়ায় তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে দৌড় দিলে তার পিছু নেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর আজ মঙ্গলবার সকালে পাওয়া যায় তার গুলিবিদ্ধ লাশ।
নিহত সানের ফুপু রত্না অভিযোগ করে বলেন, ‘‘চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির এএসআই আবু আল ইমরান সানসহ একদল পুলিশ সানকে গ্রেফতার করতে আসে। এ সময় আমার ছেলে সবুজকে আটক করে নিয়ে যেতে উদ্যত হয় পুলিশ। ওই সময় একটি ফোন পেয়ে সবুজকে ছেড়ে দিলেও পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান এ সময় বলেন, ‘সানকে ধরতে পারলেই গুলি করা হবে’। এরপর পাওয়া গেল তার গুলিবিদ্ধ লাশ।’’
তবে এএসআই আবু আল ইমরান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ কি এ কাজ করতে পারে?’
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিহত সান কুখ্যাত ছিনতাইকারী ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ডাকাতিসহ আটটি মামলা রয়েছে। তবে তাকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে সেটা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সকালে বেলগাছি-মাখালডাঙ্গা সড়কের গঙ্গাচরা মাঠে পড়ে থাকা অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নিহতের বাঁ কাঁধ ও ডান পাঁজরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের গায়ের রং ফর্সা। মুখে দাঁড়ি আছে। পরনে কালো জিন্সের প্যান্ট। খালি গা। হাত বাঁধা ছিল একটি গেনজি দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের পরনের গেনজি খুলে হাত বেঁধে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন