পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নিহত গৌতমের বাবার

আপডেট: 09:56:35 22/12/2016



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার চাঞ্চল্যকর গৌতম হত্যা মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বাবা ইউপি সদস্য গনেশ চন্দ্র সরকার।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি তার ছেলে হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করে বলেন, এখন পর্যন্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। হত্যার পর থেকে তিনি আতংকিত হয়ে আছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
নিহত গৌতম সরকারের বাবা গণেশ সরকার বলেন, সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের মহাদেবনগর গ্রামে নুর মোহাম্মদ মুক্ত, কবিরুল ইসলাম মিঠু, জামশেদ ও সাজু হোসেনসহ কয়েক যুবক চাঁদাবাজি করতো। তারা বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ছাড়াও নানা অপরাধ করতো। তিনি এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে তারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ।
তিনি বলেন, গত ১০ ডিসেম্বর পুলিশ চাঁদাবাজ জামশেদকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে ছাড়ানোর ব্যাপারে তিনি সহযোগিতা করতে রাজি হননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিন দিন পর ১৩ ডিসেম্বর নুর মোহাম্মদ মুক্ত ও মাহমুদপুর গ্রামের আবদুর রহমান ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরা থানা থেকে মুক্ত করে আনে। বাড়ি ফিরেই জামশেদ তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমার যে টাকা খরচ হয়েছে তোর কাছ থেকে তার বেশি টাকা আদায় করে ছাড়বো।’
গনেশ সরকার বলেন, ওই রাতেই তার ছেলে মাহমুদপুর সীমান্ত কলেজের ছাত্র গৌতম সরকারকে সন্ত্রাসীরা টেলিফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। রাতভর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে গৌতমের ফোন থেকে তার কাছে ফোন করে বলা হয়, ‘তোর ছেলেকে জীবিত পেতে হলে দশ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে আয়।’
বিষয়টি থানা ও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করেন।
তিনি বলেন, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা ছেলেকে নিতে তাকে সীমান্তবর্তী বেড়ি বাঁধের ওপর যেতে বলে। তিনি নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানে যাননি। তিনি বলেন, পরে তাদের কথা মতো তিনি পুলিশসহ কয়েকজন ইউপি সদস্যকে নিয়ে খাসখামার বিলে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে অন্যতম ঘাতক শাহাদাত ও আলি আহমেদ শাওন আসা মাত্রই তাদের আটক করে পুলিশ। তাদের কথা অনুযায়ী সাজু হোসেনকে কোমরপুর গেট থেকে এবং নাজমুল হোসেনকে কালিগঞ্জের পাইকাড়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়। এ সময় তারা স্বীকার করে যে, ঘটনার রাতে মহসিনের বাড়িতে খাসির মাংস দিয়ে ভাত খায়। এ সময় শাহাদাত, শাওন, সাজু, নাজমুল, ওমর ফারুক, জামশেদ, মুক্ত ও মিঠুসহ ১১ জন ছিল। পরে তারা তাকে হত্যা করে।
গণেশ সরকার তার লিখিত বক্তব্যে ‘পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার’ কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সদর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর কবির ও এসআই আসাদুজ্জামান তার দেওয়া এজাহার থেকে জামশেদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরো কয়েকজনের নাম দিয়ে তিনি থানায় একটি সম্পূরক এজাহার দাখিল করেন।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ এ ব্যাপারে যথার্থ কাজ করছে না। এমনকী আসামিদের কাছ থেকে ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তি পাওয়ার পরও পুলিশ ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি নিজের ইচ্ছামাফিক করিয়ে নিয়েছে।’
গণেশ সরকার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর কবিরসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আরও পড়ুন