পুলিশ স্বামীর তালাকের খবর পেয়েই আত্মহত্যা

আপডেট: 02:18:17 09/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার ও বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : প্রিয়া খাতুন (১৯) নামে এক কলেজছাত্রী মোবাইল ফোনে তালাকের খবর এবং তালাকনামা পৌঁছে গেছে- এমন সংবাদ পেয়েই আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামে ঘটেছে।
ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না ফাঁস লাগিয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেন।
নিহতের মামা পুলিশ কনস্টেবল বিপ্লব হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন। প্রিয়ার স্বামীর নাম রাকিব হাসান; তিনি পুলিশের এএসআই পদে ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে।
প্রিয়ার মামা বিপ্লব হোসেন জানান, বাঘারপাড়া উপজেলার সাইটখালী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাকিব হাসানের সঙ্গে একই উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে প্রিয়ার ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক নির্যাতন করতেন। মাস ছয় আগে প্রিয়ার পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রাকিবদের বাড়িতে যান। রাকিবের বাড়ির লোকজন তাদের অপমান করে প্রিয়াকে তাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। তখন থেকেই প্রিয়া বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন।
তিনি জানান, চলতি বছর প্রিয়া যশোর সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) প্রথমবর্ষে ভর্তি হন।
তিনি অভিযোগ করেন, রোববার বিকেল তিনটার দিকে রাকিব ফোন করেন প্রিয়াকে। ওইসময় তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে এবং তালাকনামা আজকালের মধ্যে তার হাতে পৌঁছাবে জানালে প্রিয়া ভেঙে পড়েন। এর পর পরই বাড়ির সবার অগোচরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে প্রিয়া আত্মহত্যা করেন।
এ বিষয়ে জানতে এএসআই রাকিব হাসানের সঙ্গে ফোনে কয়েকদফা চেষ্টা করেও রেসপন্স পাওয়া যায়নি।
পরে রাকিবের বাবা আব্দুর রাজ্জাকের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনিও কল রিসিভ করেননি। সেকারণে তাদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সোমবার তালাকের কপি হাতে পান প্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা। তালাকনামায় রাকিব জানান, ‘মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, আমার অবাধ্য হওয়া’ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে ২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে ঢাকার বিজয়নগর কাজী অফিস থেকে একটি তালাকের নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এএসআই রাকিব হাসান ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন টেলিকমে কর্মরত রয়েছেন বলে জানান প্রিয়ার মামা।
তিনি বলেন, প্রিয়ার আত্মহত্যার খবরটি জানালে ছেলের বাবা বলেছেন, 'আমরা অসুস্থ; আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েন।'
এ বিষয়ে কথা হয় বাঘারপাড়া থানার এসআই তরুণকুমার করের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকালে জেনেছি, মেয়েটির সঙ্গে রাকিবের প্রেমজসম্পর্কের একপর্যায়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মেয়েটি পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হয়। যা মেয়েটির অনুকুলে যায়নি। তারপর থেকেই প্রিয়া বাবার বাড়ি থাকতেন।'
তিনি জানান, সম্প্রতি গোপনে রাকিব আরেকটি বিয়ে করেছেন বলে শোনা গেছে। রোববার দুপুরে রাকিব তাকে ফোন করে তালাকের বিষয়টি জানালে ক্ষোভে-অপমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার এজাহার দিলে ৩০৬ ধারায় মামলা হবে।'

আরও পড়ুন