পুড়ে কয়লা পিকলু-রুহুলের পরিবারে কালো মেঘ

আপডেট: 01:38:29 27/12/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : কেমিক্যালবাহী কাভার্ডভ্যানে আগুন লেগে গ্যারেজ মিস্ত্রি পিকলু ও রুহুলের মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। উপার্জনক্ষম দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের বৃদ্ধ মা। আর নাবালক সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তায় হতবিহ্বল পিকলুর স্ত্রী তানিয়া বেগম।
সোমবার রাতে বেনাপোল থেকে আসা কেমিক্যালভর্তি একটি কাভার্ডভ্যান মেরামতের কাজ করতে যশোরের বাহাদুরপুর এলাকায় পিকলুর গ্যারেজে আনেন এক চালক। রাত আটটার পরে গ্যারেজ মালিক দুই ভাই পিকলু ও রুহুল আমিন কাভার্ডভ্যানটিতে ওয়েল্ডিং শুরু করেন। গাড়িতে দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তে আগুন লেগে যায়। এরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় ভ্যানটি। আগুন দ্রুত অন্যান্য যানবাহনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে; যেগুলো নানা কারণে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল গ্যারেজ প্রাঙ্গণে। আগুনে তিনটি গাড়ি ভস্মিভূত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো দুটি। আর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দেখা যায়, গ্যারেজ প্রাঙ্গণে পুড়ে কয়লা হয়ে পড়ে আছে মালিক পিকলু ও রুহুলের মরদেহ।
রাত ১১টার পর এই মর্মান্তিক খবর পৌঁছায় নিহতদের বাড়িতে। আকস্মিক এ খবরে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন স্বজনরা। সকালে পিকলুর বাড়িতে নামে স্বজন ও প্রতিবেশিদের ঢল। ততক্ষণে উপর্জানক্ষম দুইজনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ গোটা পরিবার। কারো কোনো সহানুভূতিই তাদের আকৃষ্ট করতে পারছিল না।
বাড়িভর্তি লোক থাকলেও আনমনা হয়ে আকাশপানে চেয়ে ছিলেন পিকলুর স্ত্রী তানিয়া। পাশেই কাঁদছিল তার তিন বছরের শিশু সন্তান আরাফাত। তার কান্নাও স্পর্শ করতে পারছিল না তানিয়াকে। কত স্বপ্ন ছিল, নিমিষেই যা তছনছ হয়ে গেছে এই তরুণী বধূর। যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে মাথায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওভাবে ঠাঁই বসে ছিলেন তানিয়া। তার পাশেই কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন বৃদ্ধা মা। শেষ বয়সের সম্বল প্রিয় দুই সন্তানকে হারিয়ে প্রলাপ বকছিলেন তিনি। স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার সব চেষ্টাই ছিল বৃথা।
ওই বাড়িতেই উপস্থিত প্রতিবেশী এক নারীর ভাষায়, ‘কী সান্ত্বনা দেবো? এ ক্ষতি অপূরণীয়। তরতাজা দুটো মানুষকে হারিয়ে তারাতো পাগলপ্রায়।’
এমন করুণ পরিণতি যেন কোনো মানুষকে দেখতে না হয়- সেই কামনা করলেন ওই নারী।
নিহতের চাচাতো ভাই মোশারেফ হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘পরিবারটিতে আর কেউ উপার্জন করার নেই। পিকলুর মা, বউ ও সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে আমি শংকিত। আমার অবস্থাও ভালো না। আর্থিকভাবে ওদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমার নেই। সরকারের কাছে দাবি করবো, ওদের পরিবারের জন্য যেন কিছু করা হয়।’
প্রতিবেশী হাসানুজ্জামান রাজু সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘এমন করুণ মৃত্যু আর দেখিনি। পুরো পরিবারটি রাস্তায় নেমে যাবে। এখন এদের প্রতি সবার সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ তাদের ফান্ড থেকে এ পরিবারটিকে অনুদান দিলে তারা কোনোমতে বেঁচে থাকতে পাবে। আমরা এলাকাবাসী চাই, তাদের পাশে সবাই দাঁড়াক।’

আরও পড়ুন