পেট্রাপোলে সীমাহীন দুর্গতি

আপডেট: 02:02:39 21/12/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোলে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের কাজের ধীর গতিতে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা জানেন না তারা কখন পার হতে পারবেন।
প্রতিদিনই যাত্রীদের এই দুর্গতিতে পড়তে হলেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বুধবার বিকেল তিনটা থেকে দাঁড়িয়ে থেকে সন্ধেয় ক্লান্ত-শ্রান্ত ঢাকার মায়ারানি দাস বলেন, ‘আর পারছি না। একটানা প্রায় তিন ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছি। লাইনের লোক যে যেখানে ছিল সেখানে আছে।’
বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, এই পথে প্রতিদিনই যাত্রী বাড়ছে। তবে বাংলাদেশ অংশে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারতে ১৬টি ডেস্কে কাজ হয়। ফলে কোনো জটলা বাধে না। কিন্তু ওপারে ডেস্ক কম হওয়ায় এবং কাজের গতি ধীর হওয়ায় যাত্রীদের কষ্টের সীমা থাকে না।
ঢাকার বাসিন্দা অনিমা ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশ অংশে ইমিগ্রেশনের কাজ সারতে কোনো কষ্ট হয়নি। খুব দ্রুত কাজ হয়ে গেছে। কিন্তু ভারতে ঢোকার অপেক্ষায় চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ইমিগ্রেশনের বাঁশের খাঁচায় আটকা পড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এতো রাতে পাসপোর্টের কাজ সেরে কোথায় যাবো? ভারতীয় চেকপোস্টে রাতে থাকতে হবে মনে হয়।’
চাঁদপুরের হাজিগঞ্জের প্রদীপকুমার টেলিফোনে জানান, স্ত্রী বাচ্চা বোন ও তাদের বাচ্চা নিয়ে দুপুর একটা থেকে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এতোদূর থেকে এসে এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আরো কাহিল অবস্থা। মধ্যমগ্রাম যাবেন তারা। তবে কখন ইমিগ্রেশন থেকে ছাড় পাবেন, রাত আটটায়ও তা বলতে পারছেন না।    
প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্টের প্রধান ফটকে বিজিবি, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও ইমিগ্রেশন পুলিশকে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি থেকে রক্ষা করতে বার বার লাইন ঠিক করতে দেখা যায়।
ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রাত জেগে আসা যাত্রীদের মুখে মলিনতার ছাপ পড়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা-কোমর ব্যথা হয়ে যায় যাত্রীদের। ওয়াশরুমে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে নারী যাত্রীদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ইনসপেক্টর (তদন্ত) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ইমিগ্রেশনে কোনো সমস্যা নেই। যাত্রীর চাপ বাড়লেও তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ১৬টি ডেস্কে দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে অফিসাররা। দেখুন, আমাদের ইমিগ্রেশনে কোনো যাত্রী পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে নেই।’
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার যাত্রী পারাপার হয়েছে বলে জানান ইনসপেক্টর মাসুদুর।

আরও পড়ুন