প্রতারক সন্দেহে জনতার ধাওয়া, তিন ইরানির গাড়ি খাদে

আপডেট: 09:27:10 12/04/2016



img

মেহেরপুর প্রতিনিধি : জেলার গাংনীতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইরানের তিন নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর আগে জনতার ধাওয়ায় ওই বিদেশিরা গাড়িসহ খাদে পড়ে যান। আটক ব্যক্তিরা নিজেদের নির্দোষ ও পর্যটক বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন তিন ইরানিকে ধাওয়া করে গাংনীর চোখতোলা মাঠের রাস্তা থেকে আটক করে। তারা হলেন আমির হোসেন (৪৫), ভয়িদ (২৫) ও নাদের আলী (২৪)।
গাংনী থানার ডিউটি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সম্প্রতি কয়েকজন বিদেশি নাগরিক কয়েকটি পেট্রলপাম্প ও চালের দোকানে টাকা ভাঙানোর কথা বলে কয়েক লাখ টাকা প্রতারণা করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ইরানের তিন নাগরিক একটি প্রাইভেটকারে করে গাংনী হাসপাতাল বাজারে এসে টাকা ভাঙানোর কথা বলেন। স্থানীয় লোকজন সন্দেহবশত তাদের ধাওয়া করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চোখতোলা মাঠে রাস্তার পাশে গাড়ি উল্টে আহত হন তারা। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
গাংনী বাজারের মোটরসাইকেল কারিগর শাহজামাল জানান, বিকেলে ওই বিদেশিরা একটি এক হাজার টাকার নোট ভাঙানোর কথা বলে তার কাছে আসেন। টাকা ভাঙানোর সময় তার নাকের কাছে কোনো সুগন্ধি শোকানোর চেষ্টা করলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এ সময় বিদেশিরা জোর করে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিতে গেলে তিনি চিৎকার দেন। স্থানীয় লোকজন বিদেশিদের ধাওয়া করেন। বিদেশিরা জোরে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চোখতোলা মাঠে রাস্তার পাশে একটা গর্তে উল্টে পড়ে আহত হন। আহত অবস্থায় লোকজন তাদের ধরে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে এনটিভির জেলা প্রতিনিধি রেজ আন উল বাসার তাপস জনরোষ থেকে রক্ষা করে তাদের পুলিশে দেন।
গাংনীর বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী লাভলু জানান, সম্প্রতি কয়েকজন বিদেশি তার কাছে টাকা ভাঙানোর কথা বলে ৩১ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এদের দেখে ওই বিদেশি নাগরিক বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে ওই ইরানি নাগরিকরা জানান, তারা দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে এসেছেন। তারা পর্যটক; প্রতারক নন।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এর আগে কয়েকজন বিদেশি ফিলিং স্টেশন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং থানায় মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা হয়। ইরানের নাগরিকদের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে দোষী মনে হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(আরবি/একে/১২.০৪.১৬)

আরও পড়ুন