প্রতারিত অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট: 03:59:41 24/07/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতারণার শিকার অন্তঃসত্ত্বা এক কলেজছাত্রীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং নতুন উপশহর এলাকার বাসিন্দা। 
নিহতের বাবার দাবি, বিয়ের প্রলোভনে সৈয়দ শামিমের (৩৩) সাথে শারীরিক সম্পর্কের ফলে আড়াই মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে সে। পরে গর্ভপাত করানোর জন্য ওষুধ খাওয়ানোর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জন্য তিনি উপশহর এস ব্লকের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাড়ির মালিক সৈয়দ রওশন আলীর ছেলে সৈয়দ শামিমকে দায়ি করেছেন।  একই সাথে সহযোগিতার অভিযোগে শামিমের অপর দুই ভাই নাসিম ও নাঈমের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা (নম্বর -৪৪) করেছেন। পুলিশ নাসিমকে আটক করেছে।
থানায় দায়েরকৃত এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাসিম ও নাঈমের সাথে মেয়েটি একই কলেজে লেখাপড়া করে। তাদের মাধ্যমে বড়ভাই সৈয়দ শামিমের সাথে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩ মে কলেজ ছুটি হলে তাকে শামিম বাড়িতে নিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে করে। এভাবে একাধিকবার তাদের দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে।  গত ১২ জুলাই মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলেনি। ১৭ জুলাই অবস্থা খারাপ হলে তাকে যশোরের একটি বেসরকারি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা যায় সে আড়াই মাসের অন্তঃসত্তা।
ঐশীর ছোটমা (বিমাতা) জানিয়েছেন, ১৮ জুলাই বিকেলে পরীক্ষা করে দেখা যায় তার পেটের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থা রয়েছে। ডা. নার্গিস আক্তার জরুরিভিত্তিতে অপারেশনের জন্য পরামর্শ দেন এবং সে রাতেই তার অপারেশন হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঐশী মারা যায়। সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য শামিমকে চাপ প্রয়োগ করে। তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে এ সংক্রান্তে এসএমএসে তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু শামিম বিয়ে না করার জন্য তালবাহানা করতে থাকে। গর্ভপাতের জন্য শামিম কোনও ওষুধ খাইয়েছে কি-না তা তিনি বলতে পারেননি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজল মল্লিক জানিয়েছেন, মেয়েটি আড়াই মাসের অন্তঃসত্তা ছিল।  তবে তার জরায়ুতে সমস্যার কারণে বাচ্চা যেখানে থাকার কথা সেখানে নয়, পাশের নালিতে ছিল। ফলে নালি বড় হয়ে তা ফেটে যায়। এই ধরনের সমস্যা হলে কোনও নারী সন্তান জন্ম দিতে পারে না। বড় হওয়ার আগেই অপারেশন না করলে মায়ের মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে নিহতের বাবা ও মা কোনও কথা বলতে পারছিলেন না।
এই বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, ১৮ জুলাই রাতে থানায় একটি মামলা হয়। শামিমকে আটক করা যায়নি।  তবে তার ছোটভাই নাসিমকে আটক করা হয়েছে।  সে এই মামলার দুই নম্বর আসামি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (অপারেশনস) শামসুদ্দোহা জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ১৮ জুলাই রাতেই মামলা রেকর্ড করে। ভিকটিমের মৃত্যুতে নতুন ধারা যোগ হবে। আর মূল আসামিকে আটকে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন