প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে ১৭ শিক্ষার্থী আহত

আপডেট: 02:06:55 18/01/2018



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে একই দিনে ১৭ ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছে।
নির্যাতিতরা জানায়, উপজেলার ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাকের মুখ থেকে মুরগির বাচ্চা ছাড়িয়ে আনতে যাওয়ার ‘অপরাধে’ তিনজনকে এবং হাতের লেখায় ‘ত্রুটি’র কারণে ১৪ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা শিশু শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ শুনে স্কুলে ছুটে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের রোষানল থেকে তাদের উদ্ধার করেন। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বিকেল তিনটার দিকে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি ক্লাস শেষ হওয়ার পর ছাত্র রিয়াজুল শেখ, তামিম ফকির ও সাইফুল শেখ কাকের মুখ থেকে মুরগির বাচ্চা ছাড়িয়ে আনতে স্কুল মাঠের পাশে একটি গাছের নিচে যায়। এ ‘অপরাধে’ প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম তাদের ডেকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন।
কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক ক্লাস নিতে তৃতীয় শ্রেণিতে যান। ক্লাস চলাকালে হাতের লেখায় ‘ত্রুটি’র কারণে ১৪ ছাত্রছাত্রীকে স্টিলের স্কেল দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন তিনি। ওই সময় পাশেই কর্তব্যরত নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিলায়েত হোসেন ছাত্রছাত্রীদের আর্তচিৎকার শুনে স্কুলে ছুটে যান।
ওসি বিলায়েত হোসেন সুবর্ণভূমিকে জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের রোষানল থেকে ১৪ ছাত্রছাত্রীকে উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে জাকিয়া খানম, ছালমা, সনিয়া, মুমতারিন ও কিরণ গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানান ওসি।
ওসি বিলায়েত হোসেন আরো জানান, তিনি ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিশির বিশ্বাস বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘তাদেরকে শাসন করার জন্য সামান্য মারপিট করেছি।’
শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার ও অভিভাবক বিলাল শেখসহ অভিভাবকদের অনেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন