প্রবল কাঁপুনিতে যশোর সার্কিট হাউজপাড়ায় আতঙ্ক

আপডেট: 12:54:16 11/01/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : কেঁপে কেঁপে উঠছে যশোর সার্কিট হাউজপাড়ার বাড়িঘর। লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। ভয়ে শিশুরা ঘরে ফিরতে চাইছে না। এ ভূমিকম্পন আর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আনা ৯০ ফুট লম্বা একটি পিলার হ্যামার দিয়ে ভূগর্ভে ঢোকার কারণে।
সার্কিট হাউজপাড়ায় জিলা স্কুলের পেছন অংশের জমিতে নির্মাণ হচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন ভবন। ছয় তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার শুরু হয়েছে পাইলিংয়ের কাজ। আর কাজের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পিলার পুঁতে পাইলিংয়ের পদ্ধতি এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল খান বলেন, ‘সকালে আকস্মিক ভূ-কম্পন শুরু হয়। কয়েক সেকেন্ড থেমে থেমে লাগাতার কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বাড়ির সবাই। বিশেষ করে শিশুরা ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে বেরিয়ে যায়। আমার পুরানো ভবনে দেখা দেয় ফাটল। বাড়ির বাইরে এসে দেখি পাশের আরো কয়েক বাড়ির লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছেন। এসময় লক্ষ্য করি রাস্তার ওপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ চলছে। দ্রুত সবাই মিলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলি। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করতে রাজি হননি। এরপর এলাকাবাসী মিলে বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়। একইসাথে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের শিক্ষা বিভাগের প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে আলোচনা শুরু করেন।’
নূরুল আমিন নামে অপর একজন বলেন, ‘রাস্তার পাশে আমার একটি ওষুধের দোকান আছে। এত বেশি কম্পন হচ্ছিল যে র‌্যাক থেকে মালামাল পড়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আবাসিক এলাকায় এভাবে কাজ করা কোনোভাবেই উচিত নয়।’
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফের কাজ শুরু করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ও প্রকৌশলী। এতে ফের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতিসহ সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় ওই এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিচালিত একটি এনজিওর কর্মকর্তা সত্য রায় বলেন, ‘কম্পনের মাত্রা এতো বেশি যে চারতলা ভবন থেকে প্রাণ রক্ষায় নেমে এসেছি। এভাবে চললে এ এলাকার অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে ধরনের পাইলিং করা হচ্ছে তা মূলত নদীতে সেতু নির্মাণে করা হয়। আবাসিক এলাকায় এভাবে পাইলিং না করে মাটি খুড়ে ঢালাই করে আসলে মানুষ আতঙ্কিত হতো না।’
ফাতমা নামে এক শিশু বলে, ‘ভয় লাগছে। ঘরে যাবো না। ঘর ভেঙে পড়বে।’
এ এলাকার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় এভাবে ভবন নির্মাণ কোনো যুক্তিতে আসে না। সারাদেশে উন্নয়ন কাজ চলছে। বড় ভবনের পাশে আরো বড় ভবন নির্মাণে পাইলিং হচ্ছে। কিন্তু সেখানে এতো কম্পন হয় না। এটা আসলে চিন্তার ভুল। কোথায় কী করতে হবে এটা সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারছে না।’
তিনি বলেন, ‘শুনেছি ৭৮টি পিলার বসানো হবে। আর সেটা করতে গেলে আশপাশের ভবনগুলো আর থাকবে না।’
পরবর্তীতে স্থানীয়রা জানান, তারা একটি মাধ্যমে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ দিতে বলেছেন। তারা দ্রুতই অভিযোগ দাখিল করবেন।
এবিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা শিক্ষা বিভাগের প্রকৌশলী মৃন্ময় সাহা বলেন, ‘ভবনটি নির্মাণে ঢাকা থেকে প্রিকাস্ট পাইলিংয়ের (নির্মিত পিলার) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে কাস্ট ইন সিটু (মাটি খুঁড়ে তলদেশ থেকে ঢালাই করে উপরে উঠে আসা) পদ্ধতিতেও পাইলিং করা যায়। তবে কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে সরকারি কাজে প্রিকাস্ট পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়। এখানেও সেই পদ্ধতিতে কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী অতি কম্পনের অভিযোগ করলেও এতে ক্ষতি হবে না। তারপরও যদি এলাকাবাসী কাজে বাধা দেয় তাহলে বিষয়টি লিখিতভাবে ঢাকায় জানানো হবে। পরবর্তী নিদের্শনা নিয়ে কাজ করা হবে।’
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের নাম্বারে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজে দেখবো। তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন