প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: 01:44:05 10/02/2019



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পশুদের চিকিৎসা তিনি নিজে না করে কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের দিয়ে করিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। এছাড়া অন্যের নামে বাসা বরাদ্দ দেখিয়ে বসবাস করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর একই কর্মস্থলে থাকায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েছেন অনিয়ম-দুর্নীতিতে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার কারণে নিয়ম-নীতির পরোয়া করেন না তিনি। অফিসকে নিজের দখলীয় সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেন।
ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কচুবাড়িয়া গ্রামের খামারী মো. হায়দার বলেন, ‘আমি ৩৫টা গাভী পালন করি। গাভীর অসুখ হলে ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ সাহেবকে বললে তিনি নিজে না এসে কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের পাঠান। তাই আমরা এখন গরুর অসুখ হলে যশোর থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করাই।’
দাসেরডাঙ্গা গ্রামের খামারি বাবলু মিয়া বলেন, ‘লোহাগড়া পশু হাসপাতালের ডাক্তার আমাদের সাথে ভালো ব্যাবহার করেন না। হাসপাতালে গরু নিয়ে গেলে ডাক্তার সাহেব না দেখে কম্পাউন্ডারদের দিয়ে দেখান।’
গন্ধবাড়িয়া গ্রামের ফারুক মোল্যা বলেন, ‘লোহাগড়া পশু হাসপাতালে আমাদের গরুর ভালো চিকিৎসা পাই না। আমরা যারা প্রকৃত গরুর খামারি, তাদের সাথে ডাক্তার কাজী মুস্তাইন বিল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। আর যারা খামারি না তাদের সাথে উনার দহরম মহরম।’
পাচুড়িয়া গ্রামের খামারী ইকবাল শেখ জানান, ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের সরিয়ে অবৈধভাবে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলাকে আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করছেন।
পদ্মবিলা গ্রামের খামারি সাইফুল শেখ ও মো. নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকদের সঙ্গে আঁতাত করে ডা. কাজী মুস্তাইন দাপটে চলেন। তাই তিনি কোনো এলাকায় পশুদের চিকিৎসা করতে যান না। কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের পাঠান। পশু হাসপাতালে ইচ্ছা হলে মাঝে মাঝে পশুদের চিকিৎসা করেন।
তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী মুস্তাইন বিল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমাকে এখান থেকে সরানোর জন্য এসব চক্রান্ত।’
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তিনজন কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারের নামে বরাদ্দ নিয়ে থাকি এবং নিয়মিত ভাড়াও পরিশোধ করি।’
কোন বিভাগীয় কর্মকর্তা অনুমতি দিয়েছেন ও কোন কোন কম্পাউন্ডার ও ড্রেসারদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুলকুমার মৈত্র বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আরও পড়ুন