প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার নামে টাকা হাতানো হচ্ছে

আপডেট: 07:44:00 13/05/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরের হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুুর রহমানের নামে ঘুষ চাওয়া হচ্ছে। একটি চক্র রিটার্নিং অফিসারের নম্বর ক্লোন করে এই অপকর্ম করছে। ইতিমধ্যে ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে এক প্রার্থী ৩০ হাজার টাকা খুইয়েছেন বলে খবর রটেছে।
রোববার বিকেল তিনটা থেকে চক্রটি প্রতারণা শুরু করে। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সহিদুর রহমান বিষয়টি টের পেয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। তিনি নিজে ও তার অফিসের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে মোবাইলে প্রার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে।
হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রার্থী গাজী আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আজ (রোববার) বিকেল তিনটা ২১ মিনিটে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সহিদুর রহমানের মোবাইল নম্বর (০১৭১২-৬৯৯০৩৪) থেকে আমাকে কল করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনি কি চেয়ারম্যান হতে চান? নির্বাচনে আপনাকে জিতিয়ে দেওয়া হবে। এখন কত দেবেন আর ভোটের পরে কত দেবেন, বলেন।’ ওই নম্বর থেকে আরো বলা হয়, ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলিপ খানও অফিসে আছেন। আমরা দুইজন একই স্থানে বসে কথা বলছি।’’
আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এসব শুনে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি পাঁচ মিনিট সময় চেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন অফিসারকে ফোন করেছি। নির্বাচন অফিসার জানিয়েছেন তিনি অফিসে আছেন। দ্রুত তার কাছে এসে বিষয়টি খুলে বলি।’
এদিকে আব্দুস সাত্তারের সাড়া না পেয়ে চক্রটি একইভাবে চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিককে কল করে। তখন তিনি ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। পরে আরো ১৫ হাজার টাকা পাঠানোর কথা ছিল বলে জানিয়েছেন প্রার্থী আবু বক্কর।
হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রার্থী আব্দুস সাত্তার আমাকে বিষয়টি জানানোর পর বুঝতে পারি, আমার নম্বর ক্লোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। যে প্রার্থী ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন, তিনি তার কিছুক্ষণ আগে আমার অফিস থেকে বেরিয়ে গেছেন। ওই প্রার্থী টাকা দেওয়ার আগে আমাকে একবার জানাতে পারতেন। আর আমি যদি টাকা চাইতাম তাহলে ফোনে চাইবো কেন? তিনি যখন আমার অফিসে এসছেন তখনতো চাইতে পারতাম।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ওসিকে জানিয়েছি। এই বিষয়ে সব প্রার্থীকে মোবাইল করে সতর্ক করা হচ্ছে।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। জিডি হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’