প্রেমিকের বাড়িতে সাথী, তাহলে সেই লাশটি কার?

আপডেট: 02:18:18 10/09/2018



img
img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : ১১ দিন আগে দাফন করা হয়েছিল মরদেহটি। শনাক্ত করা হয়েছিল এটি চৌগাছার একটি গ্রামের গৃহবধূ সাথী খাতুনের মরদেহ। কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সেই সাথী বেগম আসলে জীবিত, ঘর করছিলেন প্রেমিকের। আজ পুলিশ তাকে ধরে এনেছে। এরপর তিনি সব স্বীকার করেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, সাথী পরিচয়ে যাকে দাফন করা হলো, তার পরিচয় কী? কার কেনো তাকে খুন করে পলিথিনবন্দি করে যশোর সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ফেলে রেখে আসে? ধন্দে পড়েছে পুলিশ।
গত ২৯ আগস্ট রাতে যশোর সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে পলিথিন মোড়ানো অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ৩০ আগস্ট যশোর কোতয়ালী থানায় হাজির হন আমজাদ আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি লাশের ছবি দেখে এটি তার মেয়ে সাথী খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ ধর্ম বাবার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়ি থেকে রোববার সকালে কোতয়ালী থানা পুলিশ সাথীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। সাথী খাতুন চৌগাছার নয়ড়া গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে এবং একই উপজেলা চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। তাদের এহসান নামে ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
সাথীর বাবা আমজাদ হোসেন জানান, গত ১৪ জুলাই ‘বাইরে কাজে যাচ্ছি, বিকেলে ফিরে আসবো’ বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হন তার মেয়ে। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান ছিল না। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা আমজাদ আলী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
সাথীর ভাই বিপ্লব হোসেন বলেন, সেসময় তার বাবা লাশ দেখে হতবিহ্বল হয়ে তাৎক্ষণিক লাশটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরে এ নিয়ে তদন্ত হলে তিনি জানতে পারেন, তার ভুল হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান বলেন, এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি খুঁজে পান চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তিনি বলেন, মেয়েটির সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ছেলের সম্পর্ক ছিল। তদন্ত করতে গিয়ে পরিবারের লোকজন জানান, গত ১৬ মার্চ সাথী খাতুন ভারতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। এক মাস ১১ দিন পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন। সেসময় সাথী একাই ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানান পরিবারের লোকেরা।
‘সন্দেহ হওয়ায় সাথীর পাসপোর্ট যাচাই করি। পাসপোর্ট দেখে নিশ্চিত হই সাথী ১৬-২৪ মার্চ ভারতে ছিল। কিন্তু পরিবারের লোকজন বলছে, এক মাস ১১ দিন। তদন্তে দেখা যায়, ভারতে থাকাকালীন সাথী সেখানকার একজনের মোবাইল নম্বর থেকে কথা বলেছিল। সেই নম্বর জোগাড় করি। কথা বলে জানতে পারি, সাথী ভারতে প্রবেশ করার এক ঘণ্টা আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মান্নু ভারতে হাজির হয়। ২৪ মার্চ সাথী ও মান্নু দেশে আসে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘মান্নু মালয়েশিয়া থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকলেও তার বা সাথীর পরিবারের কেউ জানতো না। ২৪ মার্চ থেকে এক মাসের বেশি সময় সাথী ও মান্নু যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়িতে অবস্থান করে। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে মান্নু মালয়েশিয়া ফিরে যায়। আর সাথী যায় বাড়িতে। বাড়ির সবাই জানে সাথী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই সাথী স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যায়। এরপর সদর উপজেলার জলকর গ্রামে পূর্বপরিচিত আজিজ লস্করের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রোববার সকালে সেখান থেকে তাকে ধরে আনা হয়েছে।’
এসআই আমিরুজ্জামান আরো বলেন, ‘মান্নুর সাথে আজিজ লস্করের পরিবারের পরিচয় ২০১২ সালে। মালয়েশিয়া থেকে রং নাম্বারে আজিজ লস্করের পরিবারের সঙ্গে মান্নুর পরিচয় হয়। আর আজিজ দম্পতির কোনো সন্তান না থাকায় মান্নু তাদের ধর্ম বাবা-মা বলেন। সেই থেকে তাদের সম্পর্ক।’
এদিকে সাথী জীবিত ফিরে আসায় গলাকাটা ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার যে লাশ দাফন করা হয়েছিল, তার পরিচয় নিয়ে পুলিশ ধন্ধে পড়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুজ্জামান বলেন, ‘উদ্ধার লাশটি সাথীর ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে আসল রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এবার ওই লাশটি আসলে কার, সেই রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন