ফসলি জমিতে ভাটা স্থাপনের উদ্যোগ : কর্মকর্তা ম্যানেজ!

আপডেট: 01:58:23 24/01/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের ঝিকরগাছায় তিনফসলি জমিতে ইটভাটা করার প্রতিবাদ করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ‘ম্যানেজ’ হয়ে ইটভাটার পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে কৃষি কর্মকর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া তাদের এখতিয়ারবহিভর্‚ত।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রাজাপুর গ্রামে আজ মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজাপুর, বর্ণি, বেজিয়াতলা ও মোহিনীকাটি গ্রামের কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষ আলুক্ষেতে এ মানববন্ধন করেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শতাধিক মানুষ এসময় কৃষি বিভাগের প্রতি অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘‘চার গ্রামের মানুষ রাজাপুর মাঠে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ জমি সোনার মতো। ধান পাট, আলু, পেঁপে, শাক সবজি, ফুল যা লাগান তার ফলনই ভালো হয়। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল ‘পতিত জমি’ দেখিয়ে এখানে ইটভাটা করতে চায়। জীবন থাকতে এখানে ইটভাটা করতে দেওয়া হবে না।’’
রবিউল ইসলাম নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারা চাষা মানুষ। তারা এই জমিতে সোনার ফসল ফলিয়েছে। তাই খেয়ে বড় হয়েছি। ফসল ফলিয়ে ছেলে মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছি। সেই জমির পাশে ইটভাটা হলে প্রাণে মরে যাবো। আমাদের দাবি সরকার এ ইটভাটা বন্ধে কার্যকরি উদ্যোগ নিক।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কামাল হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, ‘তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছাড়পত্র দিয়েছে বলে শুনেছি। আমরা হতবাক যে সরকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে আর একজন কৃষি কর্মকর্তা তার উল্টো কাজ করছেন।’
তিনি অভিমত দেন, ইটভাটা বন্ধের পাশাপাশি ওই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
হারুন মিয়া নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘ইটভাটা করার জন্য রাজাপুর মাঠের প্রায় ৮০ বিঘা জমি লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা। ইতিমধ্যে তারা কিছু জমির মালিককে বার্ষিক লিজের প্রায় দ্বিগুণ টাকা দিয়ে জমি গ্রহণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ মাঠে এক বিঘা কৃষি জমি বছরে ১২ হাজার টাকায় লিজ দেয় জমির মালিকরা। আব্দুর রাজ্জাক সেই জমি ২২ হাজার টাকায় লিজ নিচ্ছে এবং বাড়ি করতে ইট দেওয়ার প্রলোভনও দিচ্ছে।’
হারুন মিয়া বলেন, ‘এ মাঠে ইটভাটা হলে প্রায় পাঁচশ একর জমির ফসল আবাদে প্রভাব ফেলবে এবং উৎপাদন কমে যাবে।’
মানববন্ধনের খবর পেয়ে স্থানীয় পানিসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশের আলী সেখানে আসেন।
এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধান-পাট, সবজি, ফুল ভালো উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য দিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে। যার জন্য এ অঞ্চলের সুনামও রয়েছে। ফলে এখানে কোনোভাবেই ইটভাটা করতে দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার দীপঙ্কর দাশ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইটভাটার লাইসেন্স নিতে আবেদন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষি অফিসে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। আমরা রিপোর্ট দিয়েছি যে, যে জমিতে ইটভাটা করতে চাওয়া হচ্ছে সেই জমি দুই ও তিন ফসলি। এখন জেলা প্রশাসক ইটভাটার অনুমতি দেবেন কি-না সেটা তার ব্যাপার।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইটভাটা হলেও আইনত কৃষি কর্মকর্তার বাধা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।’
‘ম্যানেজ’ হয়ে ইটভাটার পক্ষে থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
তথ্য জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলামের ফোনে রিং করা হলেও তিনি রিসিভি করেনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ফসলি জমিতে ইটভাটা হবে কি হবে না তা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বুঝবে। আমরা প্রতিবেদন দিয়ে দিয়েছি। আমাদের পক্ষে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন