ফেঁসে যাচ্ছেন শ্যামনগরের শিক্ষকনেতা

আপডেট: 12:59:54 25/01/2018



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : শেষ রক্ষা হচ্ছে না শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম হেলালের। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বেশিরভাগেরই প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত টিম। সে কারণে শিক্ষকনেতা হেলালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ জানিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত টিম।
শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম হেলালের বিরুদ্ধে ভুয়া ‘স্লিপ ভাউচার তৈরি, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষুদ্র মেরামতের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি অর্থ সংক্রান্ত রেজুলেশনে স্বাক্ষর জাল, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ছবি না টাঙানোসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মেহেরুন্নেছা জয়নাল আবেদীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আলহাজ মুজিবর রহমান এসব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো উত্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জেলা শিক্ষা অফিসার ওই শিক্ষকনেতার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তের জন্য আশাশুনি উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মুনীর আহমেদ ও কালিগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. সোহরাব হোসেনকে নিযুক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ নভেম্বর সরেজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টরা ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত তিনটি অর্থবছরে মালামাল কেনাকাটায় দুর্নীতির প্রমাণ পান। এছাড়া ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রাক-প্রাথমিক সংক্রান্ত অভিযোগসহ ১১ নভেম্বর ২০১৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত দশটি ম্যানেজিং কমিটির সভা এবং ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে পরবর্তী এক বছরে মাসিক রিটার্নে সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পান। এছাড়া ক্ষুদ্র মেরামত এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙানোতে ইচ্ছাকৃত অবহেলার বিষয়টিসহ মোট পাঁচটি অভিযোগের প্রমাণ পায় তদন্ত টিম।
তবে সিলেবাস বিক্রি এবং নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তদন্ত টিমের সদস্যরা বলছেন, তাদের দায়িত্ব তারা সম্পন্ন করেছেন। এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
শিক্ষকনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আলহাজ মুজিবর রহমান জানিয়েছে, তার অভিযোগ যে সত্য তা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুন