ফের মামলা : নাশকতার অর্থদাতা মুন্নি বাচ্চু সুজা

আপডেট: 07:47:37 09/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে ফের বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা করেছে পুলিশ।
কোতয়ালী থানার এসআই বাবুনচন্দ্র বিশ্বাস ৩২ জনের নামে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন। মামলা নম্বর ২৬। এই ঘটনায় দুইজনকে আটক দেখিয়েছে পুলিশ। কোতয়ালী থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরা হলেন, নূতন উপশহর বি ব্লক এলাকার ১১৫ নম্বর বাড়ির শওকত আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন রুবেল এবং একই এলাকার ১১০ নম্বর বাড়ির নবী হোসেনের ছেলে জাহিদ হোসেন।
আর পলাতক আসামিরা হলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা সভাপতি নুর উন নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, নগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি এহসানুল হক মুন্না, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, শহরতলীর নুরপুরের তানভীর ওরফে তুহিন, নূতন উপশহর এফ ব্লক এলাকার মনিরুল ইসলাম, আবু হোসেন, ই ব্লক এলাকার সুমন ওরফে লগা সুমন, সি ব্লক এলাকার কামাল হোসেন, এ ব্লক এলাকার আজিজুল ইসলাম, একই এলাকার রনি, ডি ব্লক এলাকার শামসু মেম্বার, একই এলাকার আলমগীর হোসেন, উপশহর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সি ব্লক এলাকার বাসিন্দা কাজী আজগর হোসেন, একই এলাকার আলো মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া সানি, কামরুল হাসান বাবু ওরফে চুন্নু, তার ভাই ইমামুল ইসলাম নান্নু, এক নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মশিয়ার মেম্বার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আশরাফুল কবির সুমন, সি ব্লক এলাকার ৭৯ নম্বর বাড়ির বুলবুল চৌধুরী, তার ভাই রনি চৌধুরী, এফ ব্লকের কবির, ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের খলিল, শেখহাটি লিচুতলা এলাকার বেনজির আহমেদ, যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার মৃত সলেমানের ছেলে আরাফাত এবং বারান্দীপাড়া এলাকার তারেক। এছাড়া অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উল্লিখিত আসামিরা যশোর-মাগুরা মহাসড়কের কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশনের সামনে নাশকতা করার জন্য অবস্থান নিয়েছিল। গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে সেখানে উপস্থিত হলে আসামিরা দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যান। আটক দুইজন পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা জানান। পরে সেখান থেকে আগুনে পুড়ানো একটি পুরনো টায়ার, বিস্ফোরিত বোমার কৌটার অংশবিশেষ, ১৩টি জালের কাঠি (ছোট লোহার টুকরো), নয়টি কাচের মারবেল, স্কসটেপের ছয়টি অংশ, বোমাসদৃশ দুটি বস্তু, ২০টি বাঁশের লাঠি, এক কেজি ওজনের ছোট পাথরের টুকরো ২০টি জব্দ করা হয়।
বলা হয়, আসামিরা বিএনপির সক্রিয় নেতা ও সদস্য। তারা গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করতে এবং নাশকতা ঘটানোর জন্য ওই স্থানে জড়ো হয়েছিলেন।
এজাহারে পুলিশ আরো উল্লেখ করেছে, যশোর শহরে চারখাম্বার মোড়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান সুজা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু এবং ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেরা মুন্নি নাশকতা করার জন্য অর্থের জোগান দিয়েছেন বলে আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
তবে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেন, পুলিশের এই অভিযোগ নিতান্তই হাস্যকর।
তারা প্রশ্ন রাখেন, ‘নৈতিকভাবে অবৈধ সরকারকে কি এভাবে রক্ষা করা যাবে?’

আরও পড়ুন