বইমেলা উদ্বোধন

আপডেট: 05:47:33 01/02/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দুয়ার খুললো মাসব্যাপী একুশের বইমেলার।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।সেই সঙ্গে আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের শিল্প সংস্কৃতি কেবল বাংলাদেশের সীমানায় না, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাবে।”
এই অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বইমেলা ঘুরে দেখেন।
কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হোসাইন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় অধ্যাপক রফিকউল্লাহ্ খান, অনুবাদে আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণকাহিনিতে শাকুর মজিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ এবং শিশুসাহিত্যে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের লেখক এগনিস মিডোসম, ক্যামেরুনের ড. জয়েস অ্যাসউন টেনটেন, মিশরের ইব্রাহিম এলমাসরি ও সুইডেনের অরনে জনসন।
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ মেলার পরিসর এবার আরো বেড়েছে। বেড়েছে বইয়ের স্টল নিয়ে বসা প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা।
প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট এলাকায় ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৫টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা একাডেমিসহ মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পুরো ফেব্রুয়ারি মাস বইয়ের এ উৎসবে বই বিক্রি করবে ২৫ শতাংশ ছাড়ে।
এবারো মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে শিশু চত্বর। ওই কর্নারকে সাজানো হয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায়।
ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত নয়টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারো ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে।
যুক্তরাজ্যের লেখক এগনিস মিডোসম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের মানুষের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে জায়গা দিয়েছে। আমি সত্যিই লজ্জিত। আমরা আমাদের দেশে একজন শরণার্থীকে জায়গা দিতে গিয়ে চিন্তা করি…।”
ইরাক যুদ্ধ এবং আরব বসন্তের ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করে তার সঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখিয়ে বর্তমান সঙ্কটে রোহিঙ্গাদের স্থান দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান মিশরের ইব্রাহিম এলমাসরি।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান এবং বাংলা একাডেমির পরিচালক শামসুজ্জামান খান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
সূত্র : বিডিনিউজ