বন্ধ হওয়া খুলনার পিস স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিপাকে

আপডেট: 01:15:01 15/10/2016



img

খুলনা অফিস : ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’ খুলনা ক্যাম্পাসের কার্যক্রম আর চালু হচ্ছে না। বছরের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
গুলশান হামলার পর জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সরকার সারা দেশের পিস স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়।
কার্যক্রম চালু রাখতে খুলনার পিস স্কুলটির কর্তৃপক্ষের আবেদনে সাড়া দেয়নি কর্তৃপক্ষ। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ স্কুল আর চালু রাখা যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ৪ আগস্ট পুলিশ স্কুলটি বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, শিক্ষাবছরের প্রায় শেষের দিকে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পছন্দের বা মানসম্মত স্কুল না পাওয়া এবং কাক্সিক্ষত স্কুলে আসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই এখনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। ফলে তাদের জীবন থেকে মূল্যবান একটি বছর ঝরে গেল।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার কেসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার-সংলগ্ন ৫০ বিকে রায় রোডে সাত তলা ভবনে ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’ খুলনা ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। স্কুলটিতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত পাঠদানের কার্যক্রম নিবন্ধিত ছিল। নিম্নমাধ্যমিকের পাঠ অনুমোদনের জন্যও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। স্কুলটি অনুমোদনের জন্য সরকার দলীয় এমপি মিজানুর রহমান মিজানের ডিও লেটারসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনও প্রক্রিয়াধীন ছিল।
গত ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িতরা পিস টিভির মাধ্যমে ডা. জাকির নায়েকের বয়ান শুনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পর থেকেই দেশে গড়ে ওঠা পিস স্কুলগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেয়। এরই অংশ হিসেবে ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’ খুলনা ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম স্কুলের সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্য সংগ্রহ, স্কুলের কারিকুলাম এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে ক্যামেরায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন চিত্রও তারা ধারণ করেন।
সূত্র জানায়, কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর শেখ মো. আশরাফ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদনপত্র খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডা. জাকির নায়েকের পিস টিভি বা দেশের অন্য কোনো পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সঙ্গে খুলনার ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’-এর কোনো সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসংস্থান হারাবে বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আর চালু হওয়ার সম্ভবনা না থাকায় স্কুলটি স্কুল ভবনটি এখন আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। ফ্লাট ভাড়া দেওয়ার জন্য ‘টু-লেট’ নোটিস টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুলের জন্য তৈরি করা পাশের আরেকটি ভবনও ভাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যৌথ মালিক আলহাজ আব্দুল মালেক ও শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া স্কুলের যাবতীয় মালামাল ও আসবাবপত্র নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।
এদিকে, ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’-এর শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ পাশের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তবে অনেকেই এখনো অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। পিস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামের রিপন মল্লিকের ছেলে আশিকুর রহমান হৃদয় এখনো অন্যকোনো স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি। যদিও সে একাধিক স্কুলে হওয়ার চেষ্টা করে। তার মতো একই সমস্যায় প্লে শ্রেণির ছাত্র আবরার ইকইয়ার ফার্জসহ আরো অনেকের।
অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষাবছরের শেষ দিকে এসে কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে চাইছে না। তাদের বক্তব্য, ‘ইনভাইট পীস স্কুল এন্ড কলেজ’-এর মতো মানসম্মত ইংলিশ ভার্সনের স্কুলের অভাব রয়েছে খুলনায়। নৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে- এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি তাদের।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এ কে এম জাকারিয়া বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত পাঠদানের কার্যক্রম নিবন্ধিত রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিকের পাঠ অনুমোদনের জন্যও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করা হয়েছে। এ অবস্থায় স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীও কর্মসংস্থান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।’
খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘এটির বিষয়ে আর ফলোআপ করা হয়নি। তবে স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন স্কুলটি বন্ধ আছে।’

আরও পড়ুন