বরের বয়স ৩৬ কনের ৮

আপডেট: 01:48:08 24/05/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে ৩৬ বছরের যুবকের সঙ্গে আট বছর বয়সী একটি শিশুর বিয়ে দেওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় চলছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলছেন মানুষ। ইতিমধ্যে বাল্য বিয়েতে সহায়তার দায়ে জাহাঙ্গীর কবির ও মীর আক্কাস আলী নামে দুই আইনজীবীকে, যারা নোটারি পাবলিক হিসেবে কাজ করেন, কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে এই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। ঘটনা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাছুরা ইয়াসমিনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কোরাপাড়া গ্রামের জনৈক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে। মাছুরা খাতুন নতুন কোর্টপাড়ার ওমর আলীর মেয়ে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর হোসেন কোরাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি পেশায় বাসের হেলপার।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবীরের হস্তক্ষেপে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাছুরাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মাছুরার মা শাপলা খাতুন জানান, তার মেয়ের জন্মতারিখ ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর।  তার মানে, শিশুটির বয়স চলছে আট বছর।
শাপলা বলেন, ‘মেয়ে লেখাপড়ায় ভালো না। তাই বিয়ের কাবিন করে রেখেছিলাম। ১৬ বছর পূর্ণ হলে তখন জামাই বাড়ি উঠিয়ে দেবো।’
পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন সনদেও দেখা যায়, মাছুরার বয়স সাড়ে আট বছর। বাবা ওমর আলীর হলফনামায় মেয়েটির বয়স আট বছর বলা হয়েছে।
মাছুরার বাবা ওমর আলী তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, আইনসিদ্ধ না হওয়ায় তিনি এই বিয়ে বাতিল ও ছেলে পক্ষের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ে হওয়ার পর বাসের হেলপারি শেষে নতুন বর জাহাঙ্গীর প্রতি রাতেই শ্বশুরবাড়িতে এসে রাতযাপন করতো। এতে প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
মোশারফ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ছাত্রী মাছুরার বিয়ে হয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। এটা অন্যায় কাজ হয়েছে।’

আরও পড়ুন