বর্ষার ফল করমচা

আপডেট: 01:32:48 26/07/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ‘আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেব মেপে। লেবুর পাতায় করমচা, ঝড়-বৃষ্টি ঝরে যা।’ ছোট বেলায় এই ছড়া আমরা অনেকেই কেটেছি। কিন্তু এখনো অনেকেই হয়ত সেই করমচা ফলটাই দেখিনি। যদিও বর্তমান সময়ে ওষধি এই ফলটি দেশের অনেক এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।
বর্ষার ফল করমচা। বৃষ্টিভেজা করমচা ফল, পাতা ও গাছ দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর। এখন দেশের বাজারগুলোতে বর্ষার এই ফলটি বিক্রি হচ্ছে।
করমচা ফলের গাছ বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই কমবেশি দেখা যায়। বাড়ির আঙিনায় তেমন কোনো পরিচর্যা ছাড়াই করমচা চাষ করা যায়। ফলনও বেশ ভালো হয়।
ওষধি এই ফলের গাছ রোপণ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাবুল। প্রথমে অনেকটা শখের বশে লাগালেও এখন বুঝতে পারছেন ফলটা অনেক দরকারি। এই ফল প্রায় সারা বছরই তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে যখন অনেক ফল আসে তখন পাকা করমচার রস দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়; যা খেতে খুব সুস্বাদু।
কামরুজ্জামান বাবুল জানান, তার সব থেকে ভালো লাগে যখন গাছে ফল আসে, তখন গ্রামের সব বয়সি মানুষ এই ফল নিতে আসে। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা এই ফল পেয়ে খুব খুশি হয়।
তিনি আরো জানান, ফলটি বৃষ্টির পরশ পেলেই যেন লালচে হতে শুরু করে। এটি দেখতে অনেকটা কুলের মতো। খেতে টক, জিহ্বায় রস আনার মতো। তবে এটি পাকলে দেখতে অনেকটা জামের মতো। তখন খেতে কিছুটা মিষ্টি স্বাদ লাগে। পুরো গাছ ভরে থাকে থোকা থোকা ফ। একটি থোকায় তিন থেকে আটটির মতো ফল হয়।
গাছে যখন ফুল আসে, দেখতে অনেকটা বকুল ফুলের মতো হয়। এই ফুল থেকে ফল হয়। ফলের রঙ প্রথম দিকে হয় সবুজ অথবা সাদাটে। তারপর ক্রমেই লালচে হতে শুরু করে। সম্পূর্ণ পেকে গেলে এটি গাঢ় লাল থেকে কালো বর্ণ ধারন করে। এ সময় ফলটি মুখে দিলে লাল রসে ভরে যায়। খেতেও খুব ভালো লাগে। টক-মিষ্টি স্বাদ। তবে ফলটি পাকার আগে যখন এর বর্ণ সবুজ থাকে তখন এতে কাঁঠালের মতো সাদা আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে। এসময় খেতে টক লাগে।
বর্তমানে দেশের প্রায় সবখানে কৃষিমেলা ও বৃক্ষমেলা হয়। এসব মেলায় বা বিভিন্ন হাট-বাজারে মাত্র দশ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে একটি চারা কিনতে পাওয়া যায়। একটু যত্নসহকারে রোপণ করলেই দু-এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। এমনকি এক বছরের মধ্যে গাছে ফলও আসতে পারে।
তথ্যভান্ডার উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, করমচা ভিটামিন সি ও আয়রনে পরিপূর্ণ। করমচা দিয়ে আচার ও জেলি তৈরি করা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকাল আগে থেকে করমচা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
করমচা ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসা ক্যারান্ডাস। উদ্ভিদজগতের এপোসিনেসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ভারতে এই করমচার অতি পরিচিত নাম কারাউন্ডা।