বাঁচানো গেল না চৌগাছার সাগরিকাকে

আপডেট: 02:01:04 12/02/2019



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : ক্যানসার আক্রান্ত চৌগাছার খড়িঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাগরিকা খাতুনকে (২৫) বাঁচানো গেল না। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
অত্যন্ত দরিদ্র সাগরিকা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের কৃষি দিনমজুর নাজিম উদ্দিন ও মা রাশিদা বেগমের একমাত্র মেয়ে। তার বাবার ভেরেন্ডাপাতার ছাউনির মতো একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মেধাবী সাগরিকা লেখাপড়া শেষ করে ২০১৭ সালের শেষ দিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। গরিব বাবার সংসারে ফেরে স্বস্তি। তবে হঠাৎই এক কালো মেঘে তাদের সেই সুখ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সাগরিকার শরীরে ধরা পড়ে মারণব্যাধি ক্যানসার। গোটা পরিবারে নেমে আসে এক ধরনের স্তব্ধতা। সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে বাবা সব ধরনের চেষ্টা করেন। সে সময় গণমাধ্যমে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সাড়া দেন অনেকে। এগিয়ে আসেন তার সহকর্মী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারাও। অসুস্থ সাগরিকাকে নেওয়া হয় ভারতের ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে (সিএমসি)। সেখান থেকে তাকে ফেরত দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর বারডেমে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাকে সেখান থেকেও ফেরত দেওয়া হয়। অবশেষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
সাগরিকার মৃত্যুতে তার পরিবার, গ্রামবাসী ও উপজেলার শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাগরিকার চাচা চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের প্রভাষক অমেদুল ইসলাম জানান, মরদেহ বাড়িতে আনার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় সাগরিকার মৃত্যু হয়। আজ বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
নাজিম উদ্দিনের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে টিপু সুলতান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সাগরিকা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। দিনমজুরের কাজ করে বাবা দুই সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার চেষ্টায় সফল হয়েছিলেন। যখন পরিবারে সুখের বাতাস বইতে শুরু করে ঠিক সেই সময়েই নেমে আসে এই অমানিশা।

আরও পড়ুন