বাঁশির সুরে বসিরের জীবন

আপডেট: 03:47:52 18/05/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়া সরকারি কলেজ বাসস্ট্যান্ডে চায়ের দোকানে বসে চা পান করাকালেই কানে ভেসে এলো মনোহর বাঁশির সুর। এগিয়ে যেতেই দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে এক ব্যক্তি বাঁশি বাজাচ্ছেন, অনেক লোক তা শুনছে। একের পর এক গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছেন লোকটি।
সুর থামিয়ে একপর্যায়ে বললেন, ‘আমাকে যে যা পারেন একটু সাহায্য করেন। আমি চোখে দেখি না। আমি নামকরা কোনো শিল্পীও না। এভাবে গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করি। শ্রোতারা খুশি হয়ে যা দেয়, তাতেই জীবন চলে।’
কথা বলে জানা গেল, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে জন্মান্ধ বাঁশি বসির আহম্মেদ (৪০) তিনি।
বসির বলেন, ‘বাঁশি দিয়ে গানের সুর তুলি। কোথাও শিখিনি। বিধাতাই জানেন কীভাবে সুর ওঠে।’
‘রাস্তা-ঘাট ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানের সুর তুলতে লোকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছু টাকাও দেয়। মা-বাবা বেঁচে নেই। আছে কেবল সাথি ও ইতি নামে দুই মেয়ে আর স্ত্রী হাসিনা খাতুন।’
‘সকালে বাড়ি থেকে বাঁশি বাজাতে বাজাতে বের হই। রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফিরি। তবে প্রত্যেকদিন বাইরে যাওয়া হয় না। প্রতিদিন বাঁিশ বাজালে দাঁতের গোড়ায় ব্যথা করে।’
বশির নামকরা কোনো শিল্পী নন। তবে সাতক্ষীরাবাসীর কাছে সুপরিচিত সুমধুর সুর তুলতে উস্তাদি দেখানোর কারণে। তিনি বাঁশি বাজানো শুরু করলে জনতার ভিড় জমে যায়।  তাদের কৃপায় পরিজন নিয়ে বেঁচে আছেন জন্মান্ধ এই শিল্পী।