বাগেরহাট শিকদারবাড়িতে বিশাল মণ্ডপ

আপডেট: 08:46:41 04/10/2018



img
img

মো. শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট : বাগেরহাটের হাকিমপুর শিকদারবাড়িতে এবারো মহা ধুমধামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুর্গাপূজা। এবার দেবী দুর্গার সঙ্গে মহাভারত ও রামায়ণের ৭০১ চরিত্র স্থান পেয়েছে মণ্ডপে।
সুবৃহৎ এই মণ্ডপ সাজাতে ছয় মাস ধরে একটানা কাজ করে চলেছেন প্রতিমাশিল্পীরা। ১৫ জন ভাস্কর গত বৈশাখ থেকে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন। মণ্ডপে স্থান পেয়েছে বিশ্বামিত্রের সঙ্গে শ্রীরাম-রণ, তাড়কা-সংহার, বিশ্বমিত্রের যজ্ঞ, অহল্লা উদ্ধার, পুষ্প বটিকাতে শ্রীরাম-রণ, রঙ্গভূমিতে দুই রাজকুমার, স্বয়ম্বর সভায় রণের রোধ, ধনুকভঙ্গ, চার কুমারের বিবাহ, পিতার বাক্য পালন, সীতার উপদেশ-বনগমন, শ্রীকৃষ্ণের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকাহিনি, মাঝির ভাগ্য ও চিত্রকূটের শোভাসহ নানান পৌরাণিক কাহিনি।
প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত ভাস্কর বিজয়কৃষ্ণ বাছাড় জানান, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ ও মহাভারতের চারযুগের দেবদেবীর নানা কাহিনি অবলম্বনে হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই মূর্তি দিয়ে। কলকাতার সীতারামের গীতা প্রেসের বই থেকে সংগৃহীত সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর আর কলি যুগের বিভিন্ন অবতারের লীলাকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিমার মাধ্যমে; যা ভক্তদের মন পুলকিত করবে এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবেন।
মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মনু-শতরূপাকে বরদান, দেবতাদের প্রার্থনা, শ্রীরামাবতার, শচ্চিদানন্দের জ্যোতিষী, দশরথের ভাগ্য, ধনুবিদ্যার অভ্যাস, সখাদের সঙ্গে শিকারসহ ১৭টি বাল্যলীলার কাহিনি রূপায়িত করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, মন্দিরের ভিতরে বিভিন্ন দেব-দেবীর ৭০০টি প্রতিমা তৈরি করা হলেও বাইরে অর্থাৎ পুকুরপাড়ে ৪০ ফুট লম্বা বিশালদেহী- লক্ষ্মী-নারায়ণের প্রতিমা তৈরি করা হবে। যেগুলো শুধু রঙ, সোলা আর আলো দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।
শিকদারবাড়ি পূজামন্দির কমিটির সভাপতি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডা. দুলালকৃষ্ণ শিকদার বলেন, ‘ধর্ম যার যার আনন্দ সবার এটি যেমন শ্বাশত, পিছিয়ে পড়া সনাতন ধর্মকে হিন্দু সমাজের কাছে তুলে ধরা এবং সৃষ্টিকর্তার পূর্ণ করুণা ও সন্তুষ্টির জন্য আমি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। তাই ২০১০ সাল থেকে এই মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। তার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অষ্টম বার। অন্যান্য বছরের তুলনায় জাকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।’
এ বছরও দেশ-বিদেশের ধর্মানুরাগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে পূজার পৃষ্ঠপোষক শিল্পপতি লিটন শিকদার বলেন, ‘ধর্মের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হলে আমার এ প্রয়াস সার্থক হবে।’

আরও পড়ুন