বাঘারপাড়াবাসীর গৌরব আনন্দের দিন ৮ ডিসেম্বর

আপডেট: 06:35:50 07/12/2017



img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : ৮ ডিসেম্বর বাঘারপাড়াবাসীর গৌরবের দিন, আনন্দের দিন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৭১-এর এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় এ উপজেলা। স্বাধীন ভূমিতে ওড়ানো হয় লাল-সবুজের বিজয় পতাকা।
সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসান আলী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় ১০৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের শ্রীরারমপুর-মালঞ্চি স্কুল মাঠে নিয়ে এসে তাদের কাছে থাকা ভারি অস্ত্র কেড়ে নেয়। ধরে আনা অর্ধেক মুক্তিযোদ্ধাকে এদিন রাতেই গুলি করে হত্যা করা হয়। বাকিদের গ্রেফতার দেখিয়ে যশোর সেনানিবাসে নিয়ে হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। ১০৫ জনের এই মুক্তিযোদ্ধার প্রায় সবাই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন।
নির্মম এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। বদলা নিতে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। এটিমের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর তপন। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ টিম ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে ঢুকে যশোর সেনানিবাসের কাছে অবস্থান নেয়। এরপর ৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীকে হটিয়ে যশোর মুক্ত করে মিত্র বাহিনী।
পরের দিন খবর পেয়ে খাজুরায় আত্মগোপন করে থাকা পাক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে মুখোমুখি যুদ্ধ হয় মিত্র বাহিনীর। গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনীর ট্যাঙ্কসহ যুদ্ধাস্ত্র। মুক্ত করা হয় খাজুরাকে। এ যুদ্ধে উভয় পক্ষের শতাধিক নিহত হন।
এই যুদ্ধের খবর পেয়ে বাঘারপাড়া হেড কোয়ার্টারের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যায় রাজাকাররা। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বাঘারপাড়া দখলে নিয়ে পাইলট স্কুল মাঠে কমান্ডার আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের নেতৃত্বে লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাঘারপাড়াকে মুক্ত ঘোষণা করেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজের সঙ্গে সহযোদ্ধা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুর গ্রামের সুবাসচন্দ্র বিশ্বাস, নলডাঙ্গা গ্রামের ওসমান গনি, জহুরপুর ইউনিয়নের স্বামী শরণ, ধলগ্রামের আব্দুল জলিল সর্দারসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা।
যুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুল আজিজ বিশ্বাস স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘৭ ডিসেম্বর আমরা সম্মুখযুদ্ধে পাক সেনা ও রাজাকারদের হটিয়ে মুক্ত করি বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম এলাকা। সেদিন পাক সেনা ও রাজাকাররা আমাদের ভয়ে পশ্চিমে পালিয়ে যায়। এর পর আমরা অপেক্ষা করতে থাকি আগামীকালের সূর্যোদয়ের জন্য। এক সময় দেখি পূর্বগগনে জ্বলে উঠলো ৮ ডিসেম্বরের আনন্দমাখা কিরণ। সকাল থেকেই চারিদিক থেকে ঢাক-ঢোলের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠলো পাইলট স্কুল মাঠ। হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিজয়ের আনন্দে মিলিত হলো মাঠে।’
এদিকে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহানাজ বেগম জানান, বাঘারপাড়া মুক্ত দিবসের এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠান। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন