বাঘারপাড়ায় বন্ধ হলো বাল্য বিয়ে, দায়িত্ব ইউএনও'র

আপডেট: 10:04:01 10/08/2017



img

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : বাঘারপাড়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগমের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে বাল্য বিয়ে। বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মেয়েটির পড়ালেখার সব খরচও বহন করবেন ইউএনও।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে মেয়েটির বয়স বাড়িয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর এলাকার মৃত মোশারফ শেখের অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ওই মেয়ের সঙ্গে মাগুরার শালিখা উপজেলার ছান্দড়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে জোবায়ের হোসেনের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বিয়ের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে দুই পরিবার।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগম ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সঙ্গে আনা হয় ওই কিশোরীর একমাত্র অভিভাবক তার মাকেও।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে মেয়ে পক্ষের লোকজনকে নিয়ে ‘আদালত’ বসানো হয়। এ সময় ১৮ বছর পূর্ণ না হলে মেয়েকে বিয়ে দেবেন না- এমন অঙ্গীকারে মেয়েটিকে তুলে দেওয়া হয় তার মায়ের কাছে। ওইসময় মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ বহনের ঘোষণা দেন ইউএনও।
ইউএনও শাহনাজ বেগম বলেন, 'মেয়েটিকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল পরিবার, কেননা তাদের পক্ষে তার পড়ালেখা করানোর সক্ষমতা নেই। আমি মেয়েটির পড়াশুনা করতে যা খরচ হয়, তা বহন করবো বলে তাদের আশ্বস্ত করেছি।'
এদিকে, জন্মনিবন্ধন সনদের ব্যাপারে জহুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী বলেন, ‘ওই মেয়েকে আমি জন্মনিবন্ধন সনদ দিইনি। আমি সবসময় বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে কথা বলি।’

আরও পড়ুন